রোববারের মধ্যে দৃশ্যমান সমাধান না পেলে সোমবার থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচির হুশিয়ারি
শহীদ মিনারে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি পালন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৪:২০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বদলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে এবার সিলেট কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনের ১২ তম দিনে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বরাবরে স্মারকলিপি দেন। তখন তারা আগামী রোববারের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো সমাধান না পেলে সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানভীর মাহমুদ বলেন, এখনো পর্যন্ত আমরা কোনো সমাধান পাই নি। যার কারণে আজকে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। পরে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপিও দিয়েছি। আগামী রোববারের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান সমাধান না পেলে সোমবার সকাল থেকে ডিসি অফিসের সামনে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো।
এ বিষয়ে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. সাহিদ ইকবাল বলেন, প্রথমে রাবেয়া বেগম নামে ডিপ্লোমাধারী যে শিক্ষককে নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, আজকে তাকে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই বদলী করা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা তো এখনো ক্লাসে ফিরে নাই, আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান আসে নি।
স্মারকলিপি পাওয়ার কথা জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারা আগেও স্মারকলিপি দিয়েছিল, আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখানে তো আসলে আমাদের কিছু করার নেই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তো মন্ত্রণালয়ের। আমরাও চাই একটা সমাধান আসুক আর শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরুক।
এ দাবিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন এখনো চলছে। তখন টানা ৩৫ ঘণ্টা কলেজের অধ্যক্ষ সহ ১৪ শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলেই কলেজের অধ্যক্ষকে বদলী করে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে আন্দোলনের কারণে নতুন অধ্যক্ষকে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাস শাটডাউন করে রেখেছেন। এতে করে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষাকার্যক্রম। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, বর্তমানে কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম দেখভাল করছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আর শিক্ষক নিয়োগসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম দেখছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড। একই প্রতিষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের খবরদারির কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ।
এদিকে ক্যাম্পাস শাটডাউন ও আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের শঙ্কা রয়েছে। তিনটি ডিপার্টমেন্টেরই প্রথম তিন বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেও ল্যাব পরীক্ষা সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, আন্দোলন শুরু হওয়ায় তা আর হয়নি। এ কারণে তারা বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা করছেন। এদিকে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইইই, সিএসসি, সিভিলের চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে আছেন এই আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সমাধান আসলে তাঁরা যথাসময়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন।




