সিলেটে ট্রেনের টিকেটের সাথে যাত্রীর নামের মিল না থাকলে ভ্রমণ করা যাবে না
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৯:৪৩ অপরাহ্ন
আগামী ১২ অক্টোবর (সোমবার) থেকে টিকেটের নাম ও যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নামের মিল না থাকলে যাত্রীকে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি সিলেট থেকে ঢাকা বা অন্য কোথাও যেতে চান তাহলে অবশ্যই তার টিকিটের সাথে এনআইডি কার্ডের নাম মিলতে হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর নেতৃত্বে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযানে ট্রেনের টিকিট নিয়ে অনিয়ম ও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন।
অভিযান শেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, আজকে আমরা দেখেছি কিছু কিছু যাত্রীর টিকিটের সাথে এনআইডির নাম মিলছে না। আমরা ৩/৪ দিন সময় দিচ্ছি। ১২ তারিখ থেকে কঠোর অপারেশন শুরু হবে। আমি চেক করবো। রেল স্টেশনে রেগুলার ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।
এর আগে অভিযানে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীর মূল নামের সাথে অনলাইনে কাটা টিকিটের নামের কোনো মিল নেই।ট্রেন ভ্রমণকে কালোবাজারিমুক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজ করতে এই অভিযান ও কঠোর তদারকি নিয়মিত চলবে বলে আশ্বস্ত করেছে জেলা প্রশাসন।
তার আগে গত বছরের অক্টোবরে সিলেট জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে নিজ নামে টিকিট ছাড়া ট্রেন ভ্রমণ করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।এরপর তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগে টিকিট কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের নজরদারি শুরু করে। তবে কিছুদিন পর থেমে যায় সেই তৎপরতা। ফের ট্রেনের টিকিট নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠতে শুরু করে। সিলেট রেল স্টেশনে টিকি কালোবাজারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে ঢাকা-সিলেট সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। এতে বেড়েছে কালোবাজারিও। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। যার বড় অংশই কালোবাজারিরা কিনে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ট্রেনের টিকিট নিয়ে নানা অভিযোগ ও যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে সম্প্রতি এ ব্যাপারে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। সিলেটে ট্রেনের টিকিট সংকটের পেছনে কালোবাজারি ও মজুদদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পেয়ে মামলা দায়েরের পর সেটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। এই মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার রাতে রেল স্টেশনে অভিযানে যান জেলা প্রশাসক।




