কোম্পানীগঞ্জে নিলামের আড়ালে অতিরিক্ত পাথর বিক্রির অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৬:৫৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে সরকারি নিলামকৃত পাথরকে পুঁজি করে অতিরিক্ত পাথর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান এবং পরবর্তীতে তাঁদের আপত্তির মুখে পাথর অপসারণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সিলেট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জ থানার ৬ হাজার ৯৯০ ঘনফুট পাথর নিলামে কিনেন উপজেলার তৈমুরনগরের মো. আব্দুল মালেকের ছেলে মো. লিটন মিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার নিলামপ্রাপ্ত পাথর অপসারণের সময় নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বহু গুণ বেশি পাথর পরিবহন করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুলিশকে ম্যানেজ করে নিলামের আড়ালে প্রায় ১৭টি ট্রাক্টরে করে অতিরিক্ত পাথর নিয়ে যাওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে যান। ফাঁড়ির ভেতরে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, নিলামের নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বহু গুণ বেশি পাথর একটি স্তূপে রাখা রয়েছে। পরে লিটন মিয়ার ক্রাশার মিল ও নির্ধারিত স্থানে গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে স্থানীয়রা প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট পাথর নিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পান। তবে ক্রেতা লিটন মিয়া দাবি করেন, তিনি মাত্র ৯ গাড়ি পাথর নিয়েছেন এবং তাঁর নিলামকৃত ৬ হাজার ৯৯০ ঘনফুট পাথরের পূর্ণ পরিমাণ এখনও নেওয়া শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র এক নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ফাঁড়ির ভেতরে একটি নির্দিষ্ট স্তূপে প্রায় ২০-২৫ হাজার ঘনফুট পাথর রয়েছে, অথচ নিলাম দেখানো হয়েছে মাত্র ৬,৯৯০ ঘনফুট। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আগে থেকে অবগত ছিলেন না। ইউএনও আদালত থেকে কাগজ যাচাই করে নিলামের সত্যতা পান। মাত্র প্রায় ৭ হাজার ফুটের নিলাম দেখিয়ে এভাবে ২০ হাজার ফুট পাথর নিয়ে যাওয়া প্রশাসনের সহযোগিতায় স্পষ্ট ডাকাতির শামিল। আমরা খবর পেয়ে পাথর অপসারণ বন্ধ রেখেছি এবং বিষয়টি ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে খতিয়ে দেখতে বলেছি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মনাফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বাদশা মিয়া এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন সহ স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালতের নির্দেশে ও নিয়ম মেনেই নিলাম দেওয়া হয়েছে। আমার ফাঁড়ির অধীনে যেগুলো আছে, তা মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষিত এবং আদালতে এর ছবিযুক্ত নথি রয়েছে। আলামতের বাইরে অতিরিক্ত পাথর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এসে পরিস্থিতি দেখেছেন এবং যেভাবে আছে সেভাবেই রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।”
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “নিলামপ্রাপ্ত পাথরের এখনও এক-তৃতীয়াংশ স্তূপেই রয়ে গেছে। যে স্তূপটি নিলাম হয়েছে, সেটিতে পাথরের সাথে প্রচুর মাটি ও বালু মিশ্রিত রয়েছে। গাড়ি হিসাব রাখার সুযোগ পুলিশের নেই; পুলিশ কেবল স্তূপকৃত আলামতের সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে।”
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি অতিরিক্ত পাথর বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে বলেন, “আদালত থেকে যে পাথর নিলাম দেওয়া হয়েছে, তা আলাদা স্তূপে রাখা ছিল। অন্য কোনো মামলার মালের ওপর হাত দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সরকারি নিয়ম মেনে দিনের আলোতেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “স্তূপটি মূলত বালু, মাটি ও পাথর মিশ্রিত ছিল। এ জাতীয় স্তূপ থেকে ১০ থেকে ১১ হাজার সিএফটি মিশ্রিত উপাদান নিলে সেখান থেকে হয়তো প্রকৃত ৭ হাজার সিএফটি পাথর পাওয়া যাবে। নিলাম গ্রহণকারীকে পুরো স্তূপটি ‘যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায়’ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি মাটি-বালুসহ পুরোটাই সরাচ্ছেন। প্রয়োজনে ইউএনও সাহেব নিজে এসে মেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।”
বর্তমানে পুলিশ ফাঁড়িতে পাথর অপসারণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে।
এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা (ভূমি) সহকারী কমিশনার পলাশ তালুকদার বলেন, এটা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিলাম দিয়েছে। আমাদেরকে জানায় নি, আর জানিও না।




