এনসিটি চুক্তি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য, ‘দেশ বিক্রি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৬:০৪ অপরাহ্ন
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চট্রগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, এটি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। এছাড়া এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়েছে। এরপরে সেই চুক্তি বাংলাদেশ চাইলে নবায়ন হবে অথবা সেখানেই সেই চুক্তির যবনিকাপাত করবে। এই চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি যারা বলছেন, সেটি সস্তা, অমূলক একটা কথা। চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির সমালোচনা করছেন অনেকেই।
শুক্রবার দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মতবিনিময় ও অনুদান প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বাইরের বিনিয়োগ বা আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং রপ্তানি খরচ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে। এ কারণেই চট্টগ্রাম পোর্টের মধ্যে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করতে চায় সরকার । বাংলাদেশের এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে এই চুক্তিটি করা হয়েছে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে যারা বন্দরে কাজ করছে তাদের কারও কর্মচ্যুতি ঘটবে না। আজকে যে বেতনে কাজ পাচ্ছেন আগামী দিনে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির কারণে তাদের প্রত্যেকের এই বেনিফিটটা বাড়বে। মানে আজকে যে পারিশ্রমিক পান সেটির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান অবনমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বরাবরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে প্রধানতম পোশাক রপ্তানিকারী। চীন তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু ভিয়েতনামের সাথে ফ্রি ট্রেড থাকায় ভিয়েতনাম আগেও হয়েছে কখনো কখনো পোশাক রপ্তানিতে কখনো বাংলাদেশকে ছেড়ে গিয়েছে আবার বাংলাদেশ সেই স্থান দখল করেছে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে কমবেশি প্রায় সাড়ে চারশো কিলোমিটারের মতো উন্নয়ন হয়েছে। বাকি আছে আরও তিনশো থেকে সাড়ে তিনশোর মতো। ইনশাআল্লাহ পঞ্চান্ন বছরে যেটা হয়েছে বাকিটা করতে একশো দশ বছর লাগবে না। আমরা আরেকটা প্রকল্প নিতে যাচ্ছি যাতে বাকি সড়কগুলির নির্মাণ কাজে আমরা হাত দিতে পারি। এটা একটা বড় প্রকল্প হবে। কারণ যে কাজ পঞ্চান্ন বছর লেগেছে সমপরিমাণ কাজ আগামী তিন চার বছরে শেষ করার জন্য যে পরিমাণ সাইজের প্রকল্প লাগে সেরকম একটা প্রকল্প নিয়ে আমরা আগাচ্ছি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা হোমোজিনিয়াস (সমজাতি) একটা নেশন। দেখতে একরকম, চালচলন একরকম, কথাবার্তা একরকম এবং আমাদের সম্প্রীতি সবসময়ই অটুট। এটাই আমাদের শক্তি।
সিলেটের জন্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে আমরা কিন ব্রিজ দেখতে যাবো। সেখানে কিন সাহেবের এই ব্রিজটা থাকবে। এটা আরও শক্তিশালী করা হবে। যেহেতু এটার বয়স অনেকদিন হয়ে গিয়েছে। তার পাশেই যেন একটা দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ করতে পারি সেটার সম্ভাব্যতা আমরা যাচাই করছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন মানবকল্যাণে কাজ করে এবং নগরবাসীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ধর্মীয় উৎসব পালনে সহযোগিতা করাও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে এবারও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট নগরীর বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে পূজা উপলক্ষে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। নগরীর ৮৫টি মণ্ডপে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।



