বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কাল
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:১০:১০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল বৃহস্পতিবার । ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সিলেটে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে ব্যালটসহ ভোটগ্রহণের সরঞ্জামাদি। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে ২ হাজার ৮৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ১২৬টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে, র্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সিলেটে সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো হুমকি বা ঝুঁকি নেই।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের সংসদীয় ১৯টি আসনে ২ হাজার ৮৮১টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের ৬টি আসনে রয়েছে ১ হাজার ১৬, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ৬৬৪, হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ৬৪৭ ও মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ৫৫৪টি কেন্দ্র। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১ হাজার ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে সিলেটের ৬টি আসনে ২১৭, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ৪৫১, হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ২৩৫ ও মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ২২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সিলেটের ১০২৬টির মধ্যে ২১৭ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এই জেলার বিভিন্ন উপজেলার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বিয়ানীবাজারে দুটি, দক্ষিণ সুরমায় ৪টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ৪৬টি, কানাইঘাটে ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১টি, সদরে ৪৫টি, জকিগঞ্জে ৯টি, জৈন্তাপুরে ২৪টি এবং বালাগঞ্জ উপজেলায় ২৪টি। এদিকে সিলেট নগরীতে ২৯৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ৯৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এসএমপির আওতায় মোট ২৯৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আমাদের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৬৬৪টি। আসনটিতে অর্ধেকের বেশি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫টি আসনের ১২ উপজেলার মধ্যে ৯ উপজেলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮৯টি। এছাড়াও দুর্গম কেন্দ্র ১৫৭টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২৪২টি। সুনামগঞ্জ-১ আসনের জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বিশ্বম্ভরপুর এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দোয়ারাবাজার উপজেলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি মনিটরিং থাকবে।
উপজেলাওয়ারী ভোটকেন্দ্রের সার্বিক তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের চার উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার ৩৮ কেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ। জামালগঞ্জে কোন অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই। দুর্গম কেন্দ্র রয়েছে ৮৩টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৭৭টি। সুনামগঞ্জ-২ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১২টি, দুর্গম কেন্দ্র ৩০টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭ টি। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২০টি, দুর্গম কেন্দ্র ১৪টি এবং ৫৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১০টি, দুর্গম কেন্দ্র ১২টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৯টি, দুর্গম ১৮টি ও ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আবু বসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৬৬৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমাদের হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের ৪টি আসনে মোট ২৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরমধ্যে অনেক বাহিনী তাদের মহড়াও সম্পন্ন করছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলার ৪টি আসনে মোট ৬৪৭টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও আলাদাভাবে থাকবে আরও ৪টি পোস্টাল ভোট কেন্দ্র। আর এসব কেন্দ্রে ২০৬৭ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া, ৫৫টি মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯টি, ২টি কুইক রেসপন্স টিম ও প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে, জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। নির্বাচনে জেলায় দায়িত্ব পালন করবে ১৭ প্লাটুন বিজিবি। এছাড়াও সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন বলেন, কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এবারই প্রথম পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি জানান, জেলার চারটি আসনে ৫৫৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৮০টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া বাড়তি নজরদারিতে রাখা হবে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, স্বাভাবিক ৩৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, এসব কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এছাড়া, দুজন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অতিরিক্ত থাকবেন। ভোটের দিন জেলায় ১ হাজার ৬৪১ জন পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবেন। এছাড়া, আরও অনেক রিজার্ভ পুলিশ সদস্য থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৫ জন আনসার সদস্য ও দুজন পুলিশ সদস্য থাকবেন।
র্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে অবৈধ অস্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশ। সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালাচ্ছে র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় অভিযোগ পেলে দ্রুত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তারা। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যা সবসময় লাইভ মনিটরিং করা হবে।




