৭ সদস্যের কমিটি গঠন, ৩৫ শতাংশ মাজারের ব্যাংক একাউন্টে জমা ও ৬৫ শতাংশ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কাজে ব্যয়
শাহজালাল (র.) মাজারের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২:২১ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : এখন থেকে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। গণনায় পাওয়া টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে রাখা হবে এবং ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা কাজে ব্যয় করা হবে।মাজারের পরিচালনার জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর শিগগিরই নতুন ম্যানেজার, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে মাজার ব্যবস্থাপন কমিটির মিটিং শেষে এসব তথ্য জানান সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন প্রমুখ।
মাজার পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে ৭ সদস্যের একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও সদস্য সচিব হিসেবে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের মোতোওয়াল্লী থাকবেন। আর সদস্য হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট জেলা পরিষদ, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
জেলা প্রশাসক জানান, হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রাপ্ত আয়ের সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আজকের কমিটির সর্বশেষ মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ের আহবায়ক ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মহোদয় সহ সম্মানিত সকল সদস্য এবং মাজারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মাজারের প্রাপ্ত দানের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। প্রতিদিনের প্রাপ্ত দানের টাকা থেকে ৩৫% মাজারের উন্নয়ন কাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে জমা করা হবে। উক্ত হিসাব জেলা প্রশাসক সিলেট এবং হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজারের মোতোওয়াল্লীর যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। অবশিষ্ট যে ৬৫% টাকা, সেই টাকা পূর্বের ন্যায় ব্যবস্থাপনা করা হবে। এই ৬৫% টাকা হতে মাজারের সকল দৈনন্দিন ব্যয়, যেমন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, আনসার সদস্য, নিরাপত্তা- এই যে বেতন ভাতা, ৩০ জন আনসার সদস্য এখানে আছে। এছাড়া নিয়োগকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ সার্বিক ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
তিনি জানান, দ্বিতীয় যে সিদ্ধান্ত, টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে মাজার কমিটির পক্ষে সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য একজন ম্যানেজার- আমরা একজন ম্যানেজার নিয়োগ করবো। সে হবে রিটায়ার্ড সিভিল সার্ভেন্ট অথবা রিটায়ার্ড আর্মি পার্সন হবে। একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন অফিস সহকারী নিয়োগ করা হবে। এই মর্মে কমিটির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়া নিয়োগকৃত ম্যানেজার যাকে আমরা নিয়োগ দিব- শীঘ্রই আমরা নিয়োগ দিব- ম্যানেজার উক্ত কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব, সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। উক্ত কমিটি মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, চতুর্থ যে সিদ্ধান্ত ছিল, মাজারের নিরাপত্তা- মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ থাকার নিমিত্ত উপযুক্ত স্থানে সিলেট সিটি কর্পোরেশন তাদের থাকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রতিদিন নির্ধারিত সকালবেলা প্রকাশ্য টাকা গণনা করা হবে। ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার পরে টাকা গণনা শুরু হবে। ম্যানেজার নিয়োগ দিলে উনি ৬৫% খরচ করবেন আর ৩৫% ব্যাংক একাউন্টে রাখবেন।
তিনি আরও জানান, ম্যানেজার আমরা এই মাসের মধ্যেই চেষ্টা করবো বা ১৫ দিনের মধ্যে আমরা চেষ্টা করবো। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আমরা পত্রিকায় সার্কুলার দিয়ে দিবো।



