ওসমানীতে সায়েন্টিফিক সেমিনার ও সচেতনতামূলক র্যালি
‘নাক-কান-গলার ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই’
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ জুলাই ২০২৫, ৫:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন
মেডিকেল রিপোর্টার: ইএনটি ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে ‘বিশ্ব হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সার দিবস’ পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার ( ৩০ জুলাই) সকালে নাক-কান-গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা: নূরুল হুদা নাঈমের সভাপতিত্বে কলেজের মেডিকেল এডুকেশন ইউনিটে “হেড-নেক ক্যান্সার ম্যানেজমেন্ট: নাক-কান-গলা বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেক্ষিত ” বিষয়ে সায়েন্টিফিক সেমিনার ; আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে নাক-কান-গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: আব্দুল কাইয়ুম আনসারি তথ্য-উপাত্ত ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালে করা অস্ত্রোপচার হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৭ শতাংশ ছিল নাক-কান-গলার বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী। সচেতনতার অভাবে ৬৩ শতাংশ রোগী হাসপাতালে আসেন এডভান্সড স্টেজে অর্থাৎ ক্যান্সারের শেষ ধাপে।
রেজিস্ট্রার ডা: মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক ডা: সৈয়দ নাফি মাহদী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা: উমর রাশেদ মুনির ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার জন্য এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। চলমান কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য আহবান করে তিনি বলেন, এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি তার বক্তব্যে নাক-কান-গলা বিভাগের অন্যতম কার্যক্রম কক্লিয়ার ইমপ্লান্টকে সিগনেচার প্রজেক্ট উল্লেখ করে বলেন, এটা আমাদের গর্বের জায়গা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: সালেহ আহমেদ বলেন এই দিবস পালনের মাধ্যমে অনেক তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। ক্যান্সার জটিল রোগ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত করা গেলে হেড-নেক ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: সৌমিত্র চক্রবর্তী ওসমানীর নাক-কান-গলা বিভাগের এযাবৎ কালের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিভাগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক ডা; মুখলেছুর রহমান শামীম।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় প্রধান ডা: নূরুল হুদা নাঈম বলেন, হেড নেক একটি জটিল ব্যাপার। এর সাথে মানুষের নাক, কান ও গলার বিষয়টি জড়িত। জড়িত মানুষের কথা বলা, মানুষের খাবার-দাবার এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসও। হেড-নেক ক্যান্সার এর মধ্যে ৫০ ভাগ রোগ প্রতিরোধযোগ্য।
তিনি বলেন, নাক-কান-গলার ক্যান্সারের মধ্যে ৭৫ শতাংশই তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের কারণে হয়। তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য যেমন- কাঁচা তামাক, জর্দা, মুখের ভিতরে পান পাতা রেখে দেওয়া এবং অতিরিক্ত সুপারি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে এবং মুখের ভিতর পরিষ্কার রাখতে হবে।
ওসমানী মেডিকেলের নাক-কান-গলা বিভাগে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত নাক-কান-গলার ক্যান্সার সার্জারি হচ্ছে, তবে সমগ্র বিভাগের চাপ সামলানোর জন্য অপারেশনের নির্ধারিত দিন আরো বাড়ানোর প্রয়োজন উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভা শেষে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ চত্বরে হাসপাতাল
প্রশাসন, কলেজ প্রশাসন,নাক-কান-গলা বিভাগের সকল চিকিৎসক ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে সচেতনতামূলক র্যালির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপনের কার্যক্রম শেষ হয়।




