শ্রীমঙ্গলে একটি ব্রিজের অপেক্ষায় চার দশক!
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের নলোয়ারপাড় গ্রামের সকালটা অন্যসব গ্রামের সকাল থেকে ভিন্ন। এখানে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এক অনিশ্চিত যাত্রা। শত শত স্কুল মাদরাসার শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ আর গৃহস্থালির কাজে বের হওয়া নারীরা পা ফেলেন একটি বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে। সাঁকোটি তাদের জন্য যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই প্রতিদিনের আতঙ্কের নাম।
উদনাছড়ার ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবি চার দশক পেরিয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ এই ব্রিজটি হলে দুই পাড়ের জীবনযাত্রায় বদলে যেতো বহু দিনের কষ্ট, থামতো প্রতিদিনের ঝুঁকি।
উদনাছড়ার একপাড়ে তেলিআব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডুবাগাঁও বাহরুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা ও ইউনিয়ন পরিষদ। অন্যপাশে দুর্গানগর, গোলগাল, গাজিপুর ও আমরাইলছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ঘন বসতি। কিন্তু সংযোগের একমাত্র পথ সেই দুলতে থাকা বাঁশের সাঁকো যা বৃষ্টির দিনে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পিচ্ছিল সাঁকোতে পড়ে গিয়ে আহত হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা স্থানীয়দের কাছে আর নতুন কিছু নয়।
এ কারণে বহু অভিভাবক তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে দ্বিধায় থাকেন। রোগী নিয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য বের হওয়াও যেন ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া। এলাকার জীবনের প্রতিটি দিনই তাই হয়ে উঠেছে ঝুঁকির সঙ্গে আপোস করে বেঁচে থাকার গল্প।
স্থানীয়রা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, যে ব্রিজটি এখানে নির্মিত হলে মানুষের যাতায়াত সহজ হতো, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত হতো, সে ব্রিজের প্রতিশ্রুতি শুনে শুনেই কেটে গেছে চার যুগ। মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
তবুও আশাবাদ ছাড়েননি উদনাছড়ার দুই পাড়ের মানুষ। তাদের বিশ্বাস, একদিন না একদিন এই সাঁকোর জায়গায় দাঁড়িয়ে যাবে একটি শক্ত পাকা ব্রিজ। যে ব্রিজ বদলে দেবে গ্রামের সকাল, পথের ভয়, আর শিশুদের ভবিষ্যৎ। একটি ব্রিজ কেবল ইট কংক্রিট নয়, এখানে তা মানুষের নিরাপত্তা প্রতিদিনের।




