শ্রীমঙ্গলে আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫১:০৮ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হেমন্তের স্নিগ্ধ হাওয়ায় মাঠজুড়ে দুলছে সোনালি ধানের শীষ, আর কৃষকের উঠোনে জমতে শুরু করেছে নতুন ফসল। টানা কয়েক বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে এবার কৃষকের মুখে ফুটেছে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত তৃপ্তির হাসি। অনেক জায়গায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটার মহোৎসব। কৃষক কিষানিসহ পরিবারের সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ধান কাটায়, কেউ ঝাড়াই-মাড়াইয়ে ব্যস্ত।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রমতে, চলতি আমন মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৮ হাজার ২৪৩ টন ধান এবং ৪৫ হাজার ৪০ টন চাল। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২০০ হেক্টর বেশি আবাদ হয়েছে, যা এ মৌসুমের সফলতার বড় সূচক।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর জানান, এবার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৫ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এতে গড়ে প্রতি বিঘায় ২৫ মণ ধান ফলন হলে মোট ৪৫ হাজার ৯৬০ বিঘা জমি থেকে প্রায় ১১ লাখ ৪৯ হাজার মণ ধান উৎপাদিত হবে। যা প্রায় ৬৮ হাজার ২৪৩ টনের সমান। এই ধান থেকে মিলিং শেষে প্রায় ৪৫ হাজার ৪০ টন চাল পাওয়া যাবে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন খোসবাস গ্রামের কৃষক মো. শাকির আহমদ বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবার তীব্র আশংকা নিয়ে আমন চাষ করি। কারণ প্রতি বছরই ফসল ঘরে তোলার মুহূর্তে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্নের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এবারো এ আশংকার ঊর্ধ্বে ছিলাম না। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের যথাযথ উদ্যোগের কারণে কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। আমার জমিতে প্রতি কেয়ারে ১৫-২০ মন ধান পাব বলে আশা করছি।
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলাউদ্দিন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং আকস্মিক বন্যা না হওয়ায় এ বছর আমন ধানের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম ছিল। ফলে মাঠ জুড়ে এখন সোনালি শস্যের সমারোহ কৃষকের চোখে-মুখে তাই ক্লান্তি নয়, পরম আনন্দের ঝিলিক। এই মৌসুমের প্রথম ধান কাটা উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকা থেকে শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পুরো উপজেলায় পুরোদমে আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক জালাল উদ্দিন জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে মৌলভীবাজারে ব্রি হাইব্রিড-৪, ব্রি হাইব্রিড-৬, তেজ গোল্ড, বিআর ১১, বিআর ২২, বিআর ২৩ এবং উফশী ও স্থানীয় আমন ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক হয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৯৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। এমন সাফল্যে আমন মৌসুম কৃষকের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মৌলভীবাজার জেলার ধানের মাঠ এখন সোনালি শস্যের আলোয় আলোকিত।




