সুনামগঞ্জে বৃষ্টির জন্য হাহাকার ফেটে চৌচির ফসলি জমি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ মার্চ ২০২৬, ৩:৩০:০৩ অপরাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ থেকে : টানা ৫ মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। পানি সংকটে ফসলি জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। হাওরজুড়ে বৃষ্টির জন্য রীতিমতো হাহাকার চলছে। বোরো মৌসুম শুরুর পর থেকে পানির সংকটে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বোরো চাষাবাদে সমস্যায় পড়েছেন চাষীরা। সেচের অভাবে ধানক্ষেতে দেখা দিয়েছে রোগবালাই। খরার কারণে পুড়ছে ধানগাছ। পোকায় আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতির মুখে চাষীরা। এভাবে চলতে থাকলে ফসল উৎপাদনে দেখা দিতে পারে নেতিবাচক প্রভাব। যা কৃষকদের আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখোমুখি করবে এমনটাই শঙ্কা ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সুনামগঞ্জের বেশির ভাগ হাওরে সেচ ব্যবস্থার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক উৎস ও বৃষ্টির পানির উপরই নির্ভর করে বোরো চাষাবাদ করতে হয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি কর্তৃক অসময়ে জলমহাল শুকিয়ে ফেলার কারণে দেখা দেয় সেচ সংকট। এছাড়াও চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় চরম পানি সংকট দেখা দিয়েছে ফসলি জমিতে। সেচ সংকট সমাধানে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না থাকায় বোরো ধানের চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আর্থিক দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে চাষীদের।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার খরচার হাওর ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ জমিতে সেচের সংকট রয়েছে। হাওরের উজান এলাকার জমি পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়েছে। সেচের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আকাশের দিকে থাকিয়ে রয়েছেন কৃষকরা।
বড়ঘাট এলাকার কৃষক নজির আলী ৬ কেদার জমি চাষাবাদ করেছিলেন। জমিতে পানির কারণে তাঁর পুরো জমির মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানগাছ লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। ৫০ ঊর্ধ্ব নজির আলী কোনো উপায় না পেয়ে জমিতে সার ছিটিয়ে ধানগাছ বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
খুব আক্ষেপ নিয়ে নজির আলী বলেন, ধান রোপণের পর থেকে পানির অভাব রয়েছে জমিতে। ভাবছিলাম বৃষ্টি হবে। কিন্তু,আজ এতোটা মাস ধরে মেঘবৃষ্টির দেখা নেই। ধান মরে যাচ্ছে, বৃষ্টি না হলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আমার মতো হাওরের সবার অবস্থা এমন। আল্লাহর কাছে দিন রাত সবাই বৃষ্টির জন্য দোয়া করছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমি নির্ধারণ করলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে একটু বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এতে সার্বিক উৎপাদন ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন নির্ধারণ করলেও চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের বছরটি ব্যতিক্রম। এবারের বোরো মৌসুমে বৃষ্টিপাত হয়নি। বিভিন্ন হাওরে সেচের সংকট দেখা দিয়েছে। খরায় ধানগাছ আক্রান্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পোকামাকড়ে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে ফসলি জমি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, বৃষ্টি না হওয়ায় হাওর এলাকার মাঠ-ঘাট শুকিয়ে গেছে। মাঠে ঘাস না জন্মানোতে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে রয়েছেন গবাদিপশুর মালিকরা।




