লোডশেডিংয়ে হুমকির মুখে সিলেটের চা শিল্প: ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪১:০৯ অপরাহ্ন
দেশের ১৬৮টি চা বাগানের মধ্যে ১২০টি কারখানায় বর্তমানে চরম উৎপাদন সংকট দেখা দিয়েছে। তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে বন্ধ থাকছে মূল্যবান সব যন্ত্রাংশ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চা উৎপাদনের ওপর। বিশেষ করে সিলেটের লাক্কাতুরাসহ দেশের প্রধান চা বাগানগুলোতে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মালিক ও শ্রমিকেরা।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৫৮০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৪০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি নিয়ে চলছে এই অঞ্চল। বর্তমান পরিস্থিতিতে চা কারখানার জন্য আলাদাভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গুণগত মান ও উৎপাদন খরচ নিয়ে শঙ্কা
কারখানা মালিকদের মতে, সময়মতো চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় পাতার গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে অনেক কারখানায় ডিজেল চালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, “নিয়মিত ম্যানুফ্যাকচারিং করতে না পারায় আমাদের কোয়ালিটি হ্যাম্পার হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।”
বিপাকে চা শ্রমিকেরা
মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক বছর উৎপাদন ব্যাহত হলেও চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেই সম্ভাবনা এখন ফিকে হতে চলেছে। শ্রমিক নেতারা আশঙ্কা করছেন, উৎপাদন কমলে তাদের কর্মসংস্থান ও মজুরিতে টান পড়তে পারে।
চা-বোর্ডের প্রত্যাশা
এদিকে চা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৫ মৌসুমে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৪৩ লাখ কেজি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮০ লাখ কেজি কম। তবে বর্তমান সংকট সমাধানে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে চা বোর্ড। তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি সংকটের সমাধান করবে এবং চা শিল্পের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।



