দিরাইয়ে ঘুর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, গাছ উপড়ে ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫৫:১৯ অপরাহ্ন
দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা ও যানবাহন,বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
আজ সোমবার (২৬ মার্চ) দিবাগত ভোর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই দুর্যোগ আঘাত হানে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার দিবাগত ভোর রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রচণ্ড বাতাস ও বৃষ্টির কারণে অনেকের বসতবাড়ির ওপর গাছ উপড়ে পড়েছে। মুহূর্তের মধ্যে বেশ কিছু ঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিনের চালা উড়ে গেছে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর ও বসতঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এসময় ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, কাপড় চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পৌর শহরের মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজিব চৌধুরী জানান, তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন পিকআপ ভ্যানটির ওপর একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে সেটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে গাড়িটি উদ্ধার করে। তিনি বলেন, গাড়িটি মেরামত করতে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লাগবে। আমি ভাড়াটিয়া বাসায় থাকি, এই গাড়ি চালিয়েই পরিবার চালাতাম। এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
ওই গ্রামের গোবিন্দ দাস জানান,তার ঘরের ওপর শতবর্ষী একটি বটগাছ ভেঙে পড়ে ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘কালাচাঁন গাছ’ নামে পরিচিত এই গাছটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পূজিত ও ঐতিহ্যবাহী হিসেবে পরিচিত ছিল।
ঘাগটিয়া গ্রামের রাহুল মিয়া, কুহিনূর মিয়া,আলী হোসেন,আমির হোসেন,আছমা বেগম, মরিয়ম বেগম, আকবর আলী,আব্দুল জলিলসহ
উপজেলার একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানান, হঠাৎ এমন দুর্যোগে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। ঝড়ে তাদের টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই, অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন, বলেন তারা।
এদিকে, ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন হাওরের পাকা ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ব্যাপক কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও উপজেলার অনেক এলাকায় আম,কাঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ গাছালি ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে ও খুঁটি ভেঙে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে,সংযোগ মেরামতে কাজ শুরু হয়েছে।
আজ সোমবার ২৭ (এপ্রিল) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি, তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষতি বেশি হয়েছে। মজলিশপুর এলাকায় পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেনে,তবে একটা জিনিস ভাল লেগেছে ঝড়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সহায়তায় সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।




