মাধবপুরে আমন ধান উৎপাদনে বিপর্যয়, কৃষকদের আহাজারি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:৪৩:৫১ অপরাহ্ন
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: মাধবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধান উৎপাদনে চরম বিপর্যয় হয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের শত শত কৃষক।
বীজ সংকট, বাজারে নিম্নমানের বীজ ছড়িয়ে পড়া, অঙ্কুরোদগম কম হওয়া এবং জমিতে দুর্বল গাছ দাঁড়ানোর কারণে এ বছর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ব্যয় বাড়লেও উৎপাদন অর্ধেকেরও কম হওয়ায় কৃষকেরা হতাশ। এমনকি আগামী মৌসুমে ধান আবাদ করা নিয়েও তারা শঙ্কায় পড়েছেন।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক সালাউদ্দিন জানান, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। অথচ ধান কাটার পর সব মিলিয়ে পেয়েছেন মাত্র ১২ মণ ধান। তিনি বলেন, আমাদের মতো কৃষকের জন্য এটা মারাত্মক ক্ষতি। এত পরিশ্রম করে লোকসান গোনার জন্য কি চাষ করব?
জগদীশপুর ইউনিয়নের কৃষক হারুন মিয়া বলেন, বাজার থেকে যে বীজ কিনেছি, তার বেশিরভাগই ছিল নিম্নমানের। বীজতলায় চারা দুর্বল ছিল, মাঠে নেয়ার পর অনেক জায়গায় শীষ ধরেনি। আমার ৪ বিঘা জমিতে গত বছর ১৮ মণ পেয়েছিলাম। এবার সব মিলিয়ে ৮-৯ মণ পেয়েছি। এতে শ্রমিকের খরচই তুলতে পারিনি।
নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন বাজারে কোনটা আসল বীজ, কোনটা নকল, বুঝে ওঠা কঠিন। অনেক সময় আমরা কম দামে বীজ কিনে ক্ষতির মুখে পড়ি। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারাবে।
বহরা ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার বলেন, এ বছর ধানের শীষ ঠিকমতো আসেনি। জমির সার, পানি, সবকিছুর ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু ফলন এত কম যে খরচ উঠে না। কৃষির এ অবস্থায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ধানের গাছ বড় হলেও শীষে দানা হয়নি। কোথাও রোগবালাইয়ের আক্রমণ, আবার কোথাও গাছ শুকিয়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে ধানের উৎপাদন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, নোয়াপাড়া ও বহরা ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বীজ বাজারে কোনোরকম তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ বিক্রি করছেন। এসব বীজে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কম, রোগবালাই বেশি এবং গাছ দুর্বল হয়। এর ফলে উৎপাদন অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।
কৃষক আমজাদ মিয়া বলেন, আগে আমরা সরকারি কিংবা পরিচিত উৎস থেকে বীজ নিতাম। এখন হাটে পাওয়া যাওয়ায় যে যেভাবে পারে বীজ বিক্রি করছে। কৃষকের ক্ষতি হলেও তাদের কিছুই যায়-আসে না।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার জানান, মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফলন কম হওয়ার প্রধান কারণ নিম্নমানের বীজ ব্যবহার।
তিনি বলেন, অনেক কৃষক অজানা উৎস থেকে কেনা বীজ ব্যবহার করায় ফলন কমে গেছে। এসব বীজের মান যাচাই করা হয় না, ফলে চারা দুর্বল হয় এবং শীষ ধরা কমে যায়। তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষকদের বারবার বলেছি, নিবন্ধিত ডিলার বা সরকারি বীজ কেন্দ্র ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে বীজ না কেনার জন্য। আগামী মৌসুমে উন্নতমানের বীজ নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি অফিস বিশেষ সচেতনতা কার্যক্রম চালাবে। পাশাপাশি ভেজাল বীজের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি করা হবে।




