গণতন্ত্রকে রক্ষা করা সবচেয়ে বড় কাজ, বড় দায়িত্ব- রাষ্ট্রপতি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা। অন্যান্য বিষয়েও দ্বিমত থাকতে পারে, সেই দ্বিমতগুলো আলোচনা পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগর ভবন প্রাঙ্গণে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা বারবার হোঁচট খেয়েছি। এ দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র অর্জন করেছে, বারবার বাঁধা এসেছে। আজকে সেই সুযোগটি এসেছে, সেই সুযোগটি আমরা কখনো অবহেলায় যেন না হারাই, এ কথা সবসময় আমাদের মনে রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেট আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। আমি যখনই সুযোগ পাই, আমি সিলেটে আসি। আর সিলেটের মানুষ অত্যন্ত হৃদ্যপূর্ণ। চরম দুর্দিনের সময়েও আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন, আমার পাশে ছিলেন সেজন্য আমি অত্যন্ত আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনাদের এই সিলেটে আমি বহুবার এসেছি। আমার বারবার করে মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা, যখন আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এখানে সমাবেশ করেছি। রোড মার্চ করেছি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমি ঠিক আগেই যেভাবে কথা বলতাম আপনাদের সঙ্গে একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে, কর্মী হিসেবে, এখন তো সেভাবে কথা বলতে পারি না। কারণ আমি তো শপথ নিয়েছি যে আমি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে আমি কাজ করব এবং কথা বলব। আমি বিশ্বাস করি যে, এই কাজটি কঠিন হলেও তা আমি করার চেষ্টা করব। কারণ বাংলাদেশের সকল মানুষকে নিয়েই তো আমাদের কাজ। দল, মত, নির্বিশেষে এবং বর্ণ, গোষ্ঠী সকলের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে আমি মূল কাজ মনে করি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা এই সিলেটে এসেছি। এই সিলেট নিজেই অত্যন্ত গর্বিত একটি জায়গা। কারণ এখানে যাদের জন্ম হয়েছে, তারা বিভিন্ন সময়ে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। সিলেটের একটা নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। যে সংস্কৃতিটা সম্পূর্ণ আলাদা, একটা আইডেন্টিটি আছে তাদের। যে সংস্কৃতির মধ্যে আমরা দেখছি মনিপুরীসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ছাড়াও আপনাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। সিলেটের চা বাগান শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই খ্যাতি। সেজন্য সিলেটের অনেক বেশি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গতকালই পাকিস্তানের হাই কমিশনারের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন যে, তিনি ৩-৪ দিন আগেই সিলেটে এসেছিলেন, চা এখান থেকে নিয়ে যাবেন, অর্থাৎ তারা আমদানি করবেন আমাদের এখান থেকে চা অত্যন্ত ভালোবাসেন। তো এটার কো-অর্ডিনেট করা দরকার। আমাদের মন্ত্রী মহোদয় আছেন, যিনি দায়িত্বে আছেন। তারা ব্যবস্থা নিবেন।
তিনি বলেন, আর একটি বিষয় যদি না বলি একেবারেই অন্যায় করা হবে, সিলেটের প্রবাসী সমাজ। এই প্রবাসী সমাজ শুধু যে সিলেটের অর্থনীতি নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। আমরা সিলেটকে সবসময় মূল্যায়ন করব এইজন্য যে, সিলেটের মানুষ তারা ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিকামী, অন্যদিকে তারা একইসঙ্গে যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে সব সময়। অতীতে আমরা তা দেখেছি, গণতন্ত্রের জন্য তারা অনেক অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকে একটি কথা আপনাদেরকে বলতে চাই, একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, আমাদের নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে না পারলে, আমরা যে নিজেরা নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে না পারি, কেউ এসে কিন্তু আমাদের তা করে দিয়ে যাবে না। আমরা সেজন্যই আজকে বারবার করে বলছি যে, আসুন এখন অন্তত আমাদের কমন যে জিনিসগুলো আছে, সেই জিনিসগুলোর সামনে আমরা একমত হই, একমত হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। এখানে বিরোধী দল থাকবে, সরকারি দল থাকবে, সবকিছু নিয়েই এগিয়ে যাব। আমাদের বিভিন্ন বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা এখানে অনেকগুলো জাতি একসঙ্গে বসবাস করি। এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে, যে বাংলাদেশে আমরা বিভাজন না নিয়ে আর কোথাও আমরা যাব না। বাংলাদেশ আমাদের এক, এখানে সবাই সব সম্প্রদায়ের লোক বাস করে। কারণ আমরা এখানে সেভাবেই বড় হয়েছি, আমরা এখানে গড়ে উঠেছি।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি রাহাত আরা বেগম, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে এগারোটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে সার্কিট হাউজে গেলে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি সেখান থেকে হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহ পরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন।



