সম্পাদকীয়
সিলেটবন্ধু এম সাইফুর রহমানের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:১৩:৪৭ অপরাহ্ন
তাঁর এমন চলে যাওয়া কাম্য ছিল না। ঠিক দু’দিন আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সিলেটের মাটি দেখে মরতে চাই’। দু’দিন পর তাঁর কথাটি যেন অমোঘ সত্যে পরিণত হলো। কিভাবে জানলেন- প্রিয় সিলেটের মাটিকে এ দেখাই তাঁর জীবনের শেষ দেখা? কেনইবা তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে ছুটে এসেছিলেন প্রিয় মানুষদের কাছে, ওলিকূল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) আর শাহপরান (রহ.) এর মাজারে? কেনইবা তিনি নাড়ি পোঁতা যেখানে, সেই সবুজ নিভৃত গাঁয়ে স্বজনদের সান্নিধ্যে একটি রাত কাটালেন? তবে কি পরম করুণাময়ের আহবানকে আঁচ করতে পেরেছিলেন তিনি? তাই বুঝি এতো তাড়াহুড়ো করে প্রিয় ভূমির প্রিয় মানুষদের কাছ থেকে বিদায় নেয়া? এতোসব প্রশ্নের জবাব হয়তো অবলীলায় কেউ দিতে পারবে না। তবে একটি জবাব খুবই স্পষ্ট যে, আমাদের এক অতি আপনজন, একজন কৃতি ব্যক্তিত্ব এম সাইফুর রহমান আকস্মিকভাবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ শুক্রবার সিলেট সফরে এসে যেন সকলের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন এবং ঢাকা যাওয়ার পথে ৫ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মর্মান্তিকভাবে। যেন তিনি সিলেট এসেছিলেন শেষ বিদায় নিয়ে যেতে!
সাইফুর রহমান আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তা শুধু একাধিকবার সরকারের সফল অর্থমন্ত্রী ছিলেন কিংবা রেকর্ড সংখ্যায় ১২ বার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছিলেন, এ জন্য নয়। তিনি একজন দেশপ্রেমিক সর্বজনের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে দেশবাসীর মনে আলাদা স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রচলিত রাজনীতির কাঁদা ছোড়াছুঁড়িতে তিনি বিনা বাক্য ব্যয়ে গা ভাসিয়ে দেননি বলেই, নিজে যা ভাবেন, বিশ্বাস করেন তা অকপটে বলে দিতে পারতেন। ‘আমাদের রাজনীতি রয়ে গেছে সেকেলে ধাচের’- এ ধরণের মন্তব্য করে তিনি দেশের রাজনীতিকদের সতর্ক করে দিতেন। যদিও তার কাছ থেকে শিক্ষা নেননি সমসাময়িক রাজনীতিবিদরা।
একান্ত নিন্দুকরাও একবাক্যে মেনে নেয় নির্দ্বিধায় যে, সিলেট অঞ্চল তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নে সাইফুর রহমানের যুগান্তকারী অবদান রয়েছে। এ উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করানো যায় সিলেট মহানগরীকে। মূলত নগরীর বর্তমান জৌলুস আর চাকচিক্য যা ফুটে উঠেছে, তার পুরোটাই কৃতিত্ব অর্থনীতিবিদ সাইফুর রহমানের।
সাইফুর রহমানের ভূমিকা ইতিহাস থেকে খুব সহজে মুছে ফেলার মতো নয়। সফল অর্থমন্ত্রী হিসেবে কৃতিত্ব প্রদর্শন করে তিনি দেশের অর্থনীতিকে সচল করে তুলেছেন অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায়। তাছাড়া সর্বাধিক বার জাতীয় বাজেট ঘোষণার রেকর্ড তো তারই।
একজন সাইফুর রহমান যেমন সিলেটে, তেমনি সারা দেশে, এমনকি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও কৃতি পুরুষ। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেয়া মতো নয়। কিন্তু পরম শক্তিধরের আহবানকে উপেক্ষা করার সাধ্য নেই কারও। সেখানে আত্মসমর্পন করতে হয় সকলকেই। আমরা মরহুম এম সাইফুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তাঁর প্রস্থান ছিল আমাদের রাজনীতির আকাশের একটি নক্ষত্রের পতন। তার দেখানো সুন্দর ও স্বচ্ছ পথে আমাদের রাজনীতিকে পরিচালিত করলেই হবে তাঁর প্রতি উপযুক্ত সম্মান দেখানো। তাঁর স্মৃতির প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধা।



