আমাদের পাড়ার মিলু ভাই
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৬:১৪:৪৪ অপরাহ্ন
ইয়াহইয়া ফজল :
আমার জন্ম-বেড়ে উঠা সিলেট নগরের খাসদবীর ও বড়বাজার এলাকায়। জন্ম খাসদবীরে হলেও বড়বাজারেই মূলত শৈশব ও কৈশোর বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছি। সরল অর্থে যদিও দুটি পাড়া আসলে একই- বলা চলে এ মাথা-ও মাথা। কয়েক মিনিটের হাঁটা দূরত্বে। মিলু কাশেম ভাই আর আমি এক পাড়ার বাসিন্দা। আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে দারুস সালাম রোডে আমাদের পাশাপাশি বাসা ছিল। আব্বা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সেখানেই ছিলাম।
মিলু ভাইয়ের সঙ্গে আমার বয়সের ফারাক বিস্তর। তার উপর তিনি তখন সাংবাদিকতা করেন! রাশভারী চেহারা। কথাবার্তাও কম বলতেন। পাড়ায় আড্ডায় কখনোই তাঁকে দেখিনি। তিনি নির্দিষ্ট রুটিনে চলতেন। সকাল এগারোটার দিকে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যেতেন। তাঁর ছোট ভাইদের একজন লিটু ভাইয়ের মোটরসাইকেলে চেঁপে পাড়া ছাড়তেন। ফিরতেন রাতে। তখনকার সময়ের ক্রেজ হোন্ডা সিডি হান্ড্রেট মোটরসাইকেলের আওয়াজ শুনলে বুঝে নিতাম তিনি বাসায় ফিরেছেন।
মিলু ভাইয়ের সব ছোট ভাই মঞ্জু আমাদের খেলার সাথী। পাড়ার মাঠে এক সঙ্গে ফুটবল খেলি, শৈশবের দূরন্তপনায় মাতি। তবুও মিলু ভাইয়ের সঙ্গে আমার দূরত্ব কমেনি। তিনি আমার কাছে ছিলেন এক ধরণের ভয় মিশ্রিত শ্রদ্ধার মানুষ। কারণ ছাড়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা থাকত। সামনে পড়ে গেলে কেন জানি সালাম দিয়েই কিভাবে কেটে পড়া যায় সেই তালে থাকতাম।
পরিস্থিতি হঠাৎ করে যেন বদলে গেল। গত শতকের শেষভাগে কেমন করে জানি আমার মাথায় সাহিত্যের পোকা ঢুকে পড়ল। শুরুতে সায়েন্স ফিকশন গল্প লিখতাম। তখন বিজ্ঞানভিত্তিক সাপ্তাহিক ‘অহরহ’ ম্যাগাজিনে আমার বেশ কিছু সায়েন্স ফিকশন গল্প ছাপা হয়। খেলাধূলা বিষয়ক লেখালেখিও চলছিল। স্থানীয় দৈনিক মানচিত্রের অফিস তখন আম্বরখানায়। এখন যেখানে ইস্টার্ণ প্লাজা, তার ঠিক বিপরীতে। স্থানীয় দৈনিকের মধ্যে মানচিত্রে বেশি লিখেছি, সিলেটের ডাকে হাতেগুনা কয়েকটা। আর ঢাকায় বিভিন্ন পত্রিকা ম্যাগাজিনে। বিশেষ করে দেশের প্রথম রঙিন জাতীয় দৈনিক ‘মুক্তকণ্ঠ’ এসেই তুলপাড় ফেলে দেয়। তারাই পত্রিকার সঙ্গে ফ্রি ম্যাগাজিনের প্রচলন ঘটায়। রবিবারে ‘ক্রীড়া কণ্ঠ’ আর বৃহস্পতিবারে ‘প্রবাহ’ নামে ম্যাগাজিন ফ্রি দিত। সেই ক্রীড়া কণ্ঠে আমার একাধিক লেখা প্রচ্ছদ প্রতিবেদন হয়েছিল। এসবের পাশাপাশি ছড়ায় হাত পাকানোর মরিয়া চেষ্টা ছিল। সেই সুবাদে পরিচয় ও ঘনিষ্টতা হয়ে গেল- সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান শাহিন, জয়নাল আবেদীন জুয়েল, মোসলেহ উদ্দিন বাবুল, রনক আহমদ চৌধুরী, মতিউল ইসলাম মতিন, সিরাজ উদ্দিন শিরুল ভাইসহ অনেক অগ্রজদের সঙ্গে। তখন উঠতি সাহিত্যকর্মী হিসেবে ফজল, ফাজুল, ফরিদী- আমরা ত্রয়ী সিনিয়রদের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠি। নামের মিল থাকায় সবাই আমাদের ছন্দে ছন্দে ডাকতেন।
যা হোক, তখন সিলেটে যৌথ কাব্যগ্রন্থ, গল্পগ্রন্থ, ছড়াগ্রন্থ বের করার প্রবণতা প্রখর ছিল। সেই বিষয়টি আমাকেও আক্রান্ত করে। আমার চিন্তার সারথি হয় ফরিদী- ছড়াকার রিপন আহমদ ফরিদী। আমরা দুইজনে একটা তালিকা করি। সেই তালিকা করতে গিয়ে একটা নামের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে- ‘মিলু কাশেম’।
দেখা গেল- সিলেটের ছড়াসাহিত্যিকের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে এই নামটি উপরের দিকে থাকে। মানে উপেক্ষা করার সুযোগই নেই। সে সময়টায় এসব যৌথগ্রন্থে ঢাকার বিখ্যাত দুই একজনের লেখা রাখার প্রচলন ছিল। না হলে মর্যাদা ঠিক থাকে না। তখন বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে জ্বলজ্বলে নাম লুৎফর রহমান রিটন। তাঁর কাছে পৌছারও একমাত্র সহজ পথ এই মিলু কাশেম। এত বড় ছড়াকার নাকি মিলু কাশেম ভাইয়ের বন্ধু! আমার আর ফরিদীর বিস্ময় আরো বাড়ে।
সিলেটের ছড়াসাহিত্যে এত প্রভাবশালী নাম! অথচ আমাদের এই কয়েক বছরের স্বল্প বিচরণে কোথাও তিনি নাই। তখন সিলেটে অসংখ্য সাহিত্য সংগঠন সক্রিয় ছিল। নিয়মিত সাহিত্য আসর হতো। এর মধ্যে ছড়া পরিষদ সিলেটের সাপ্তাহিক ছড়া পাঠের আসর হতো প্রতি শুক্রবার বিকেলে জিন্দাবাজারে রাজা ম্যানশনে দৈনিক সিলেট বাণী অফিসে। এছাড়াও সিলেট সাহিত্য পরিষদ, প্রথম দিনের সূর্য, সাইক্লোনসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতি সপ্তাহে সাহিত্য আসর করত। সব নাম এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। কিন্তু কোথাও নেই মিলু কাশেম। যেন সম্রাট আলেকজান্ডারের মতো ঝড় তুলে রাজত্ব করে হারিয়ে যাওয়া কোনো দূর্দণ্ড প্রতাপশালী রাজা। তিনি নাই, তবু তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করার উপায় নাই।
আসলে আমি বা আমার সমসাময়িকরা যখন সাহিত্যের আঙিনায় পা রেখেছি তারও বহু আগে মিলু কাশেম ছড়ার রাজ্য জয় করে, ত্যাগ করে সাংবাদিকতায় পুরোদস্তর মনযোগী হয়েছেন। সাহিত্যপাড়ায় আর তাঁর যাতায়াত নাই। যে কারণে আমরা এসে তাকে পাইনি।
যা হোক, সিনিয়রদের কাছ থেকে তাঁর ঠিকানা যোগাড় হলো। অবাক কাণ্ড- তিনি তো বড় বাজার থাকেন! আমার পাড়ায়! ফরিদী ঠাট্টা করে আমাকে বলল- তুই তো ব্যাটা কম না, মিলু কাশেম আর তুই এক পাড়ায় থাকিস! একদিন মিলু কাশেমকে খুঁজতে বের হয়ে আবিস্কার করলাম- আমার প্রতিবেশী সেই সাংবাদিকই মিলু কাশেম!
সেই সময়ের বিবেচনায় বিষয়টি আমার কাছে সুখকর ছিল না। বরং একটা অস্বস্তি কাজ করতে লাগল- তার সঙ্গে গিয়ে কিভাবে কথা বলি! কম কথার মানুষটিকে তো ভয় লাগে। আমি তাঁর সব ছোটভাই মঞ্জুর দারস্থ হই। তাকে বলি- এই তোর ভাই নাকি ছড়া লেখেন! মঞ্জু খুব অবাক হয়ে বলে- হ্যাঁ। বড় ভাই তো লেখক। কেন তুই জানিস না? আমি বললাম, আমি তো জানি তিনি সাংবাদিক।
যা হোক, তাকে বললাম নিজের উদ্দেশ্যের কথা। সে বলল, ঠিক আছে পরের দিন সকালে বাসায় চলে আয়। আমি ভাইকে তোর কথা বলে রাখব। আমি বললাম, তুই সঙ্গে থাকবি কিন্তু।
পরদিন ভয়ে ভয়ে গেলেও মিলু ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে আমি অবাক হই! বাইরে থেকে কাঠখোট্টা মনে হলেও তিনি একেবারে নরমসরম, হাসিখুশি মানুষ। খুব খুশি হলেন আমি লেখালেখি করি জেনে। বই বের করতে চাই যেনে বললেন- আমি তো লেখালেখি ছেড়ে দিয়েছি অনেকদিন। লেখাগুলোও কোথায় আছে তাও জানি না। প্রথমে রাজি না হলেও পরে বললে- লেখা খুঁজে দেখতে হবে। মানে- লেখা দিতে নিমরাজি হলেন আরকি।
লেখা দিলেনও। দশটি ছড়া। পড়ে দেখি তাঁর লেখার কাছে আমার লেখা ছাইপাশের মতো। একটা ছড়া সেই এক পড়াতে মুখস্ত হয়ে গেল। এত বছর পরও মনে গেঁথে রয়েছে। পুরোটা মনে আছে কিনা বলতে পারছি না। চেষ্টা করি কতটুকু মনে করতে পারি-
‘নন্দলালের কাকার
গাছ ছিল এক-টাকার,
বর্ষাকালে সময় হতো
গাছের টাকা পাকার।
পাকলে টাকা উড়তো
ঘুর্ণিপাকে ঘুরত,
নন্দরা সব পেতে টাকা
হাওয়ায় গুলি ছুড়ত।
এক ঝড়ে গাছ হাওয়া
আর গেল না পাওয়া
নন্দরা সব কেঁদেই মরে
ছেড়ে নাওয়া খাওয়া।’
[স্মৃতি থেকে লিখলাম। যদি স্মৃতিগত কারণে ভুল হয়ে যায় কোনো অংশে, কিংবা বাদ পড়ে- মাফ করে দেবেন মিলু ভাই]
যা হোক, মিলু ভাই লেখা দিলেন। এবার তাঁকে বললাম, লুৎফর রহমান রিটনের লেখা লাগবে। আপনি বলে দিতে হবে। বলার আগে অনেক ইতস্তত করেছি। ভেবেছি বিষয়টি কিভাবে নেবেন তিনি! কিন্তু মিলু ভাই বেশ স্বতষ্ফুর্তভাবে রাজি হলেন। আমাকে একটা চিঠি লিখে দিলেন। বললেন- রিটনকে আমার কথা বললেই হবে। বিদায় বেলা দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। নিজে থেকেই বললেন- ‘আমি টেলিফোনে যদি রিটনকে পাই তবে আলাদা করে বলে রাখব-তোমার কথা।’
মিলু ভাইয়ের সেই চিঠি নিয়ে আমি আর ফরিদী এক দুপুরে ঢাকার ট্রেনে চেপে বসি। আমার আব্বা ছিলেন খুব কড়া লোক। স্কুল আর মসজিদ ছাড়া কোথাও একা যাওয়ার অনুমতি ছিল না। কিন্তু আব্বা অদ্ভুতভাবে রাজি হয়ে গেলেন। আমাকে আর ফরিদীকে ট্রেনে তুলে দিয়ে গেলেন। যে ছেলেকে তিনি আম্বরখানা একা ছাড়তেন না। তাকে কী করে ঢাকায় ছেড়ে দিলেন, সেটা আজো আমি ভেবে পাই না।
পরদিন সকালে লুৎফর রহমান রিটন ভাইয়ের অফিসে যাই আমি আর ফরিদী। তাঁর সম্পাদিত ‘ছোটদের কাগজ’ ম্যাগাজিনের কার্যালয় তখন শাহবাগে- আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় অথবা চতুর্থ তলায়। আমরা পৌছাই সকাল ১০টার দিকে। ওমা গিয়ে দেখি অফিস ভর্তি বিখ্যাত সব লেখকে। বুকের ধড়ফড়ানি বেড়ে যায়। ভয়ে ভয়ে ঢুকি। পিচ্চি পিচ্চি দুই অপরিচিত কিশোরকে দেখে প্রথমেই মনযোগ না দেওয়াটা স্বাভাবিক তখনকার সময়ে ছড়া সাহিত্যের সবচেয়ে বড় তারকা লুৎফর রহমান রিটনের। দিলেনও না। তিনি তখন আড্ডায় মশগুল। আড্ডার বিষয়বস্তুও কিছু কিছু মনে আছে এখনো। তখন বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত মাত্র বিয়ে করেছেন। তার বিয়ের খবর শুনে ভারতের এক আশি উর্ধ্ব বৃদ্ধ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন- সেদিনের সংবাদপত্রে এমন খবর ছাপা হয়েছিল। সেই সংবাদই ছিল আলোচনার বিষয়বস্তুর অন্যতম।
কিছুক্ষণ যাওয়ার পর হঠাৎ কৌতুহলী চোখ নিয়ে রিটন ভাই জানতে চাইলেন- তোমাদের কী চাই?
আমরা বললাম, সিলেট থেকে এসেছি। আপনার সঙ্গে দেখা করতে।
তিনি আরো অবাক হয়ে বললেন- ঘটনা কী বলতো। আমি তখন মিলু ভাইয়ের চিঠিটা বাড়িয়ে দিই। তিনি সেটা হাতে নিয়ে খুলেই বললেন- ওহ মিলু পাঠিয়েছে। বসো বসো।
বুঝা গেল- তিনি মিলু ভাইকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছেন।
চিঠি পড়া শেষ করে বললেন- ‘এখন দশটা ছড়া দেওয়া তো কঠিন বিষয়। সময় কই বলো? তারপর বললেন- ঠিক আছে মিলু যখন পাঠিয়েছে দেখছি কি করা যায়।’
তারপর বললেন- মিলু তো আমার পুরনো বন্ধু। শুরু হলো স্মৃতিচারণ। সিলেট গেছেন অনেকবার, মিলু ভাইয়ের বাসায় থেকেছেন তাও বললেন। আমাদের মতো দুই উঠতি কিশোর ছড়াকারের জন্য তো এসব কথায়- শুধু অবাক থেকে অবাক হওয়ার পালা।
হঠাৎ খেয়াল হতেই উপস্থিত যে আট নয়-জন ছিলেন তাদের বললেন- এরা ক্ষুদে ছড়াকার। সিলেট থেকে আসছে। তারপর আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন- চাদের হাঁটের প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল হক দাদু ভাই, শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম, সাহাবুদ্দিন নাগরীসহ সম্ভবত নয়-জন ছিলেন। সবার নাম নিশ্চিতভাবে মনে না থাকায় ভুলে হওয়ার ভয়ে উল্লেখ করছি না। তবে তারা প্রায় সবাই বাঘা বাঘা সাহিত্যিক, ছাড়াকার।
সিলেট থেকে এসেছি জেনেই শুরু হলো প্রশ্নের পর প্রশ্ন। তোমরা ছড়া লেখ- ছড়া পরিষদ সিলেটের সদস্য হয়েছ? যেন ছড়া পরিষদের সদস্য না হলে আবার কিসের ছড়াকার!
আরো প্রশ্ন- সুফিয়ান কেমন আছে? জুয়েল কেমন আছে? প্রশ্নের পর প্রশ্ন। আমরাও বেশ গর্ব নিয়ে উত্তর দিতে থাকি। আমাদের সুফিয়ান ভাই, জুয়েল ভাইদের নিয়ে প্রশ্ন করছেন তারা!
যা হোক, এই বই বের করার সূত্র ধরে মিলু ভাইয়ের সঙ্গে আমার পাড়াতো সম্পর্ক বদলে গেল। লেখালেখি করি বলে পাড়ার সবার চেয়ে আমার প্রতি তাঁর আলাদা ভালোবাসা ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আরো গভীর থেকে গভীর হয়েছিল। তবে তাঁর সমসাময়িক কিংবা সিনিয়রদের সঙ্গে আমি যত সহজ ছিলাম, পুরো জীবনেই তার সঙ্গে এত সহজ হতে পারিনি। ছোটবেলার সেই ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধা শেষ পর্যন্ত জারি ছিল।
মিলু ভাই সিলেটের সাহিত্যের সমৃদ্ধ সময়ের পথিক ছিলেন। খুব ইচ্ছে ছিল তাঁর দীর্ঘ এটা সাক্ষাৎকার নিয়ে রাখব। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না। আমার অনেক পরিকল্পনার মতো- মিলু ভাইয়ের প্রয়াণে এই ইচ্ছারও মৃত্যু ঘটে গেল।
মিলু ভাই, একই শহরে থেকেও আপনার সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখা নাই। এবার তো আপনি না দেখার ভুবনে চলে গেলেন একেবারে। আপনি আমার কৈশোরের বড় তারকাদের অন্যতম। প্রিয় ছড়াকার। আপনার মতো ছড়াকার হতে চেয়েছিলাম, আপনার মতো লিখতে চেয়েছিলাম। সবার ভিড়ে আপনি সবসময় আলাদা ছিলেন আমার কাছে। এই যে এসব মনের কথা- এসব আপনাকে লিখে বলার ইচ্ছে ছিল দীর্ঘদিনের। আপনার প্রতি জন্মদিনের আগে ভাবি- এবারের জন্মদিনে আপনাকে নিয়ে লিখব। কিন্তু এই করে করে তিনটি বছর চলে গেছে। শেষ পর্যন্ত যখন লিখলাম- তখন আপনি অনন্তলোকে। আপনার আর পড়া হবে না। আসলে প্রকৃতিই হয়তো চায়- কিছু কথা না বলা থাকুক, কিছু কথা শুনতে নেই।
ওপারে ভালো থাকুন মিলু ভাই।




