সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ধনী মিজান, গরিব নাছির
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১৫:৪৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সুনামগঞ্জের ৫ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দিয়েছেন হলফনামাও।
হলফনামায় প্রার্থীদের বার্ষিক আয়, মোট সম্পদ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ থেকে সবচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মিজানুর রহমান চৌধুরীর। মিজানুর রহমান চৌধুরীর আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী ১৫ কোটি ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭১ টাকা দেখানো হয়েছে। বছরে তাঁর আয় ৩২ লাখ ১০ হাজার ৩৫৪ টাকা। কেবল ব্যবসা থেকে আয় ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
মিজানুর রহমানের হাতে নগদ রয়েছে ১৮ লাখ ৬ হাজার ৪০১ টাকা ও ব্যাংকে জমা রয়েছে ৮৩ লাখ ১৫ হাজার ২৩২ টাকা। তার রয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকার কৃষি ও অকৃষি জমি। অপরদিকে, প্রার্থীদের মধ্যে আর্থিক দিকে তুলনামূলক দুর্বল প্রার্থী সুনামগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। তার বার্ষিক আয় কৃষিখাত থেকে মাত্র ৪ লাখ টাকা। তাঁর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ, ব্যাংকে জমা মাত্র ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। নিজের ও যৌথ মালিকানায় মিলে ১৩ একর কৃষি জমি রয়েছে।
এছাড়া, অন্য প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী বিএনপি প্রার্থী আনিসুল হক তাঁর মোট আয় ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৭ হাজার ৩ শত ২৯ দশমিক ৯৫ টাকা উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে ব্যবসা খাত থেকে বছরে তাঁর নিয়মিত আয় হয় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৮শত ২৯ দশমিক ৯৫ টাকা। তাঁর হাতে নগদ অর্থ ১ লাখ টাকা এবং ব্যাংককে জমা ৫৩ রয়েছে লাখ ৪৭ হাজার ১৬২ দশমিক ৫৯ টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ১.৪০ একর ভূমি যার মূল্য ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ ২ হাজার ১৪৯.৩৬ টাকা ও নিজের নামে কৃষি জমি ৫.২৭ একর যার মূল্যও ১১ কোটি ২৩ লক্ষ ৮হাজার ৭০০ টাকা। ।
বিএনপির অপর প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় কৃষিতে ৪ লাখ, দোকান ভাড়া ৬০ হাজার ব্যবসা ৫০ হাজার, গরুর খামার হতে ৫০ হাজা টাকা। কামরুল নিজের নামে অকৃষি জমি ০.১৫ একর যার মূল্য ৭০ লাখ টাকা, উত্তরাধিকারী সম্পত্তি ২০ একর ৬০ লাখ টাকা ও ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দালান ঘর এবং ৩০ লাখ টাকা মূল্যের গরুর খামার উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। নগদ কোনো টাকা উল্লেখ না করলেও নিজের নামে ব্যাংকে ৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা প্রদর্শন করেছেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন সমর্থিত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী হলফনামায় তাঁর মোট আয় ৮ লাখ ১৫ লাখ ৪০২ টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমান ৫২ লাখ ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা। নিজের আয়ের কয়েকগুণ বেশি দেখানো হয়েছে স্ত্রী’র আয়। তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪ টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪৭ টাকা।
সন্তানের সম্পদের পরিমান দেখানো হয়েছে ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৯৬ টাকা। হলফনামায় রফিকুল ইসলামের নিজের হাতে নগদ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬২১ টাকা দেখানো হলেও স্ত্রীর হাতে নগদ ৮১ লাখ ১৪ হাজার ৬৬২ টাকা প্রদর্শন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে আর্থিক দিক দিয়ে সক্ষম প্রার্থী জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৬১১ টাকা। বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৫২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আইন পেশা থেকে বছরে আয় করেন ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ শিশির মনিরের চেয়ে বেশি ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪৮ হাজার ২৬৩ টাকা।
শিশির মনিরের নিজের নামে কোনো জমি নেই। তাহির রায়হান চৌধুরীর বার্ষিক আয় কৃষি খাত থেকে ৩ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা। শেয়ার বন্ড থেকে আয় ৪৫ হাজার ২৪৪ টাকা। তাঁর আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭১ টাকা প্রদর্শন করা হয়েছে। তাঁর হাতে নগদ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৯ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৮৯২ টাকা। তাঁর নামে কৃষি জমি ১১ একর এবং অকৃষি জমির মূল্য দেখানো হয়েছের ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কোটিপতি প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বিএনপির প্রার্থী কয়ছরের আয়করের রিটার্ন অনুয়ায়ী সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বার্ষিক আয় ৬০ লাখ ৭ হাজার টাকা। নগদ অর্থ ৩৩ লাখ। ব্যাংকে জমা ৮৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৭ টাকা। আর্থিক অবস্থায় প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। তাঁর আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সম্পদ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার ৫১৭ টাকা। বছরের আয় ২৬ লাখ টাকা। তাঁর হাতে নগদ ২ কোটি ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৪১৪ টাকা। ঢাকায় ১৭ ডিসিমিলের একটি বাসা ও গুলশানে একটি ফ্লাট রয়েছে আনোয়ার হোসেনের। তাঁর নামে বিদেশে একটি বাড়ি যার মূল্য ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৬১ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমান দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮ টাকা। বছরে আয় ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮৬ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৬ টাকা। নগদ অর্থ ৫০ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৩ টাকা ও ব্যাংকে মাত্র ১৯ হাজার ৪৭১টাকা জমা রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরীর আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সম্পদ দেখানো হয়ছে ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৭০৮ টাকা। বছরে তাঁর আয় ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৪ টাকা কৃষিখাত ও বাসা ভাড়া থেকে আয় ১ লাখ ১৬ হাজার। ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার। নগদ রয়েছে ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৮ টাকা ও ব্যাংকে মাত্র ২ হাজার ৫৩০ টাকা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে হলফনামায়।
জামায়াতের প্রার্থীর ইয়াসীন খানের আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪ টাকা দেখানো হয়েছে। আইনপেশা থেকে তাঁর বছরে আয় ৬ লাখ ২৭ হাজার ২০০ টাকা ও অন্যান্য উৎস থেকে ৯ হাজার ১৩৩ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ ১৪ হাজার ৯২৩ টাকা, ব্যাংকে ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৮৪ টাকা জমা রয়েছে। নিজের নামো স্বর্ণ রয়েছে ১৫ ভরি।
সুনামগঞ্জ -৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলামের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সম্পদ ১ কোটি ৯ লাখ ২৪ হাজার ৪৭ টাকা দেখানো হয়েছে। বছরে আয় ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। বাসা ভাড়া থেকে তার আয় ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। পেশা থেকে আয় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ ৭১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯২ টাকা ও তিনট ব্যাংকে ৯ লক্ষাধিক টাকা রয়েছে তাঁর একাউন্টে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনের সম্পদের পরিমান ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৪১ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষি খাত থেকে আয় ২ লাখ ৮০ হাজার ও অন্যান্য উৎস থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার। নগদ অর্থ ৪৮ লাখ টাকা ও ব্যাংকে ১৬ লাখ ৮১ হাজার ১৬৯ টাকা। সু
নামগঞ্জ ৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের আয়কর রিটার্নে সম্পদ দেখানো হয়ছে ১ কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। বছরে আয় ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কৃষিকাজ থেকে আয় ৫০ হাজার ও ব্যবসা থেকে ব্যবসা থেকে ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৩১লাখ ৯৪ হাজার ৫৪৬ টাকা থাকলে ব্যাংককে নেই কোনো টাকা। ২৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ও ৪ একর অকৃষি জমি রয়েছে।




