সিলেটে ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ মে ২০২৬, ১:৫৪:৩১ অপরাহ্ন
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে একজনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর নতুন করে ৫৩ জন হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মারা যাওয়া তিন শিশু হলো- সিলেট নগরের আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আব্দুল মুমিনের আট মাসের শিশু সন্তান মাহদি হাসান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আসামপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছয় মাসের শিশু সন্তান মুস্তাকিন এবং সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৭ মাস বয়সী শিশু জারা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে গত মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল পৌঁনে ৫টার দিকে মাহদিকে পিআইসিইউ-১-তে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। শিশু মুস্তাকিনকে গত ৩ মে দুপুর ২টায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আর একই হাসপাতালে রাত ১১টায় মৃত্যু হয় শিশু জারার। এর আগে একই দিনে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজিবুল ইসলাম নামে এক বছরের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
এ নিয়ে সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৪১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৪ জন ভর্তি আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এদিকে, সিলেটে হামের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওসমানী হাসপাতালে অতিরিক্ত একটি শিশু ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর মুনীর রাশেদ। শনিবার থেকে ওসমানীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে।
হাম নিয়ে চিকিৎসকের আবেগঘন স্ট্যাটাস: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলকলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হেদায়েত হোসেন সারোয়ার হাম রোগ নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছে। তার লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
হাম আক্রান্ত হয়ে সিলেট এ এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার বেশির ভাগ আমার কর্মস্থল হাম পিআইসিইউ, সিলেট ওসমানী মেডিকেল এ। হাম এর সাথে নিউমোনিয়া ও নানা জটিলতায় এই বাচ্চাগুলোর শ্বাস নিতে না পেরে যখন ছটফট করতে থাকে, সে দৃশ্য দেখে সহ্য করা কঠিন, এদের বাঁচাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করা ডাক্তার, নার্সদের ও অনেক কষ্ট হয়, চোখে জল আসে, তা দেখা যায় না। এই রোগীগুলো কেউই হামের টিকা দেয়নি। বিগত ২ বছর হাম এ টিকা না দেয়ার ফল ভোগ করছে বাংলাদেশ। হামের রোগী ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে… একমাত্র টিকা দেয়া ছাড়া এটার বিস্তার রোধে আপাতত আর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার এই মহামারী মোকাবিলা করার জন্য টিকার ব্যবস্থা করেছে। অথচ অনেকের মধ্যে এখনো এটা নিয়ে অনীহা দেখা যাচ্ছে!
মনে রাখবেন, সরকারের এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আপনার অবহেলায় টিকা না দিয়ে যদি হামে শিশু মারা যায়, এর দায় আপনার। এখনো সময় আছে ১০ তারিখ পর্যন্ত সবখানে, ২০ তারিখ পর্যন্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশন এ টিকা দেয়া হবে। দেরি না করে কাজটি সেরে ফেলুন। বেশি বুঝে বা না বুঝে নিজ বাচ্চার খুনী হবেন না। ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সকল শিশুকে টিকা দিন, শুধু নিজের পরিবারের নয়, আত্মীয়, প্রতিবেশী কেউ না দিয়ে থাকলে তাদেরকে বোঝান। বিগত ২৮ দিনের মাঝে হামের টিকা না দেয়া হয়ে থাকলে তাদের সবাইকে টিকা দিতে হবে। আগে ২ টা বা ১ টা টিকা দেয়া থাকলেও টিকা দিতে হবে। সকলে মিলে আসুন আমাদের ফুলগুলোকে অকালে ঝরে যাওয়া থেকে বাঁচাই।




