◾করিমপুর ইউপির সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত
দিরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ মে ২০২৬, ১২:১২:১২ অপরাহ্ন
উবাইদুল হক, দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকেঃ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তালিকা তৈরিতে করা হয়েছে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ। বঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে করিমপুর ইউনিয়নের কৃষকদের সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কৃষকরা কেবল করিমপুর নয় উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও কৃষক তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, করিমপুর ইউনিয়নের কচুয়া ও চান্দপুর গ্রামের প্রায় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেল মঙ্গলবার পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন।তাদের দাবি,প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে প্রবাসী,অকৃষক,একই পরিবারের একাধিক সদস্য,সরকারি চাকুরীজীবি,স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীদের স্বজনদের নাম অনিয়মের মধ্য দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কচুয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় প্রবাসী ব্যক্তি,কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়,কচুয়া গ্রামেরই বাসিন্দা নয় এমন কয়েকজনের নামও রয়েছে। আছে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও। কৃষকগণ তাদের করা অভিযোগে এসকল অনিয়মের বর্ননা দিয়ে এর সাথে সম্পৃক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পৌরশহরের একেবারে নিকটবর্তী গ্রাম চান্দপুরেও ভয়াবহ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ইউএনও’র নিকট লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়,কোনো জমি চাষ না করেও কয়েকজন ব্যক্তি তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আবার একই ব্যক্তির নাম ভিন্ন বানানে একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে। পিতার সঙ্গে দুই পুত্র,এক পরিবারের ৪ ভাই, একাধিক ক্ষেত্রে দুই ভাইকে চুড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কৃষকদের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সুপারিশে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে কেবল তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে অনেক প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন।
করিমপুর ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক বলেন, যারা সারা বছর জমিতে কাজ করেছেন, তাদের অনেকের নাম তালিকায় নেই। অথচ এলাকার বাইরে থাকা বা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিরাও সহায়তার তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
কেবল করিমপুর নয় উপজেলার তাড়ল, ভাটিপাড়াসহ বিভিন্ন প্রায় সকল ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। স্বামী পেশায় শিক্ষক আর স্ত্রী গৃহিণী কিন্তু তার এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক ভয়ে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকরা মুখ খুলছেন না। সরেজমিন তদন্তে অনিয়মের আরও সত্যতা পাওয়া যাবে। এতসব অনিয়মের মধ্যে গেল সোমবার দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত হাওর মানবিক সহায়তা কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানের ছবি ছড়িয়ে পড়লে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। এই অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে গ্রামে গ্রামে নানান সমালোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে আজ বুধবার করিমপুর ইউনিয়নের কৃষকদের সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
এবিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার সিলেটের ডাককে বলেন, “চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে।তাই বিতরণ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন,বিষয়টি সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে দৈনিক সিলেটের ডাকে সুনামগঞ্জ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের ঘটনায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ঘটনাটি সর্বপ্রথম জনসম্মুখে আসে।



