দিরাই-শাল্লা উপজেলার বন্যা, অতিবৃষ্টি ও কৃষি ক্ষতিতে জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জুন ২০২৬, ৯:৫২:৫৮ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত দিরাই-শাল্লা উপজেলার মানুষ চলতি মৌসুমে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এই জনপদের কৃষক, খামারি ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা ও কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে দিরাই-শাল্লা উন্নয়ন পরিষদ।
পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, হাওরাঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি কৃষি। কিন্তু সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা সময়মতো ধান কাঁটতে, উত্তোলন করতে ও শুকাতে পারেননি। ফলে বিপুল পরিমাণ ধানের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার কারণে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা কৃষকদের আর্থিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করেছে।
অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চারণভূমি ও খোলা মাঠ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারি ও কৃষকদের। এতে পশুপালন খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
দিরাই-শাল্লা উন্নয়ন পরিষদ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
পরিষদের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করতে হবে; ফসলহানি ও ধানের গুণগত ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে; ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে গো-খাদ্য সরবরাহ এবং পশুপালন খাতে বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে; জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে; হাওরাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও জীবিকা সুরক্ষায় বিশেষ তহবিল গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করতে হবে।
দিরাই-শাল্লা উন্নয়ন পরিষদ বিশ্বাস করে, দ্রুত, সমন্বিত ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাওরাঞ্চল হিসেবে দিরাই-শাল্লার কৃষি ও জনজীবন রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ এবং জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন- দিরাই-শাল্লা উন্নয়ন পরিষদের সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সভাপতি প্রফেসর ড. দিদার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ মিহির রঞ্জন দাস, যুগ্ম সম্পাদক শেখ মো. নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আব্দুল লতিফ।



