নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানদের সংবাদ সম্মেলন
রায়নগরে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় বাবা-মা ও গৃহপরিচারিকা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহত দম্পতির প্রবাসী চার সন্তান। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আইনের আওতা এড়াতে না পারেন এ দাবিও জানিয়েছেন তারা। গতকাল সোমবার নিহত দম্পতির নিজ বাড়ি রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহত আবদুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের সন্তান আরিফ ইফতেখার, তাহমিনা সাত্তার এনি, সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, চার ভাই-বোনই প্রবাসে বসবাস করেন। তবে তাদের জন্মভূমি, শিকড় ও সবচেয়ে আপন মানুষগুলো ছিলেন সিলেটে। বাবা-মা এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা গৃহপরিচারিকাকে একসঙ্গে হারানোর শোক কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বাবা-মাকে হারানোর কষ্ট তাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ গৃহপরিচারিকার মর্মান্তিক মৃত্যুও তাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তারপরও দেশের আইন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
নিহতদের সন্তানরা বলেন, তাদের একমাত্র প্রত্যাশা
তিন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা যাবে না। আবার কোনো অপরাধী প্রভাবশালী হওয়া বা অন্য কোনো কারণে যেন আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সাংবাদিকসহ অনেকে তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, ফোন করেছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন। এ জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা বলেন, গণমাধ্যম হত্যাকাণ্ডটি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবি সামনে এনেছে। ভবিষ্যতেও তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তারা।
তারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ বা প্রতিহিংসার কথা বলতে তারা সংবাদ সম্মেলনে আসেননি। তারা চান, সত্য বেরিয়ে আসুক, প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়ুক এবং আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার হোক।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এ চার দাবি তুলে ধরেন তারা
এ ছাড়া সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে তারা বলেন, নিহত বাবা-মা ও গৃহপরিচারিকার কোনো ছবি সংবাদ, অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা প্রচার না করতে। বিষয়টি পরিবারের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তারা সবার মানবিক বিবেচনা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে নিহত তিনজনের আত্মার শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চান চার ভাই-বোন। একই সঙ্গে মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
তারা বলেন, সত্য কখনো চাপা পড়ে থাকে না। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে আবদুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাঁদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনজনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।



