ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ইতিহাস গড়ার হাতছানি দিচ্ছেন নারী নেত্রী ছাবিনা খান ও আদিবা হোসেন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ৪:২৪:৪২ অপরাহ্ন
শহিদুল ইসলাম সাজু, বিয়ানীবাজার (সিলেট) থেকে ॥ ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া প্রতিথযশা নারী নেত্রী কৃষ্ণপ্রিয়া ও অপর্ণা পালের মতো এবারও সিলেট-৬ আসনে দুই নারী ইতিহাস গড়ার হাতছানি দিচ্ছেন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী নারী নেত্রী ছাবিনা খান পপি ও সৈয়দা আদিবা হোসেন দলীয় বা স্বতন্ত্র যেভাবেই হোক নির্বাচনে অংশ নিলে তারা ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবেন।
কেননা, এর আগে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন নারী প্রার্থী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেননি।
গত কয়েক মাস থেকে বিরামহীন প্রচারণা, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা দাবির প্রচারপত্র বিলি, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে সিলেট-৬ আসনে (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আলোড়ন তুলেছেন দুই নারী প্রার্থী।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ছাবিনা খান পপি ও সৈয়দা আদিবা হোসেন দাপটের সাথে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হ্যাভিওয়েট প্রার্থীদের সাথে তারা রাজনীতির মাঠে, তৃণমূল নেতৃত্বে নিজেদের অবস্থানের যথার্থ প্রমাণে সমর্থ হয়েছেন। এর প্রমাণ মিলছে তাদের বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৃথক সভা সমাবেশ ও গণসংযোগে ব্যাপক নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। প্রচার ও গণমিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ দুই নারী। বিশেষ করে জাতীয়বাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় তাদের নেতৃত্বগুণ নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসনীয় হয়েছে।
নারী নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত শিল্পপতি ও সিলেট-৬ আসনের দুই বারের প্রাক্তন সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া ও ছাবিনা খান পপি যুক্তরাজ্য বিএনপি’র প্রাক্তন সভাপতি ও বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত কমর উদ্দিনের কন্যা। এ দুই নারী নেত্রীর পথচলা উজ্জ্বল হয়েছে পিতাদের রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মী-সমর্থক এবং ব্যক্তি ও সরকারি উন্নয়নে তাদের অবদানের কারণে। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় রাজনীতির মাঠে তাদের সাবলীল উপস্থাপন নেতাকর্মীদের মধ্যে নিজেদের অবস্থানকে আরো পোক্ত করেছেন তারা।
কুশিয়ারা নদীর চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুসহ বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার অসংখ্য অবকাঠামো উন্নয়নে প্রাক্তন সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার নাম যেমন জড়িয়ে রয়েছে একইভাবে কুশিয়ারা নদীর শেওলা সেতুসহ এ দুই উপজেলার অসংখ্য অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে জড়িয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র প্রাক্তন সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের নাম। পিতাদের জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার দৃষ্টান্ত তাদের জন্য মাঠ পর্যায়ে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। শুরুতে বেগ পেতে হলেও সময়ের সাথে সাথে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী এ দুই নারী দলের ও নিজেদের প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তারা আলোচিত হচ্ছেন।
সিলেট জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি নজমুল হোসেন পুুতুল বলেন, ‘বিএনপিতে গণতন্ত্রের চর্চা রয়েছে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এ দুই নেত্রী। বিএনপি’র প্রায় সব নেতাকর্মী তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ছাবিনা খান পপি ও সৈয়দা আদিবা হোসেন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আমাদের দলের সম্পদ। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। দল থেকে তাদের মূল্যায়ন করা হলে দলের যে নির্দেশনা থাকবে তৃণমূলে সেটি প্রতিপালিত হবে।
সিলেট জেলা বিএনপি’র শিশু বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ বলেন, ‘চব্বিশের ৫ আগস্টে দেশের পট পরিবর্তনে গণতন্ত্রের যে শুভ সূচনা হয়েছে তার অর্জিত সফলতার মধ্যে অন্যতম বলা যায়, এ দুই নারী নেত্রী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ময়দানে নেমে পড়ায়। তারা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচির পালন করে যাচ্ছেন।
দলের একাধিক প্রভাবশালীর প্রার্থীর মতো তৃণমূলে এই দুই নারী নেত্রী নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাদের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া এবং বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। দল থেকে এ দুই নেত্রী ছাড়াও অন্য যে আরো পাঁচ সাতজন প্রার্থী রয়েছেন তাদের যে কেউ মনোনয়ন পেলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তার পক্ষে অর্থাৎ ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।’
বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী সৈয়দা আদিবা হোসেন বলেন, যুব সমাজ ও নারী সমাজের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি, আগামীতেও এ বিষয়ে নানা পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া এ দুই উপজেলার ভঙ্গুর অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে চাই। শিক্ষার মান উন্নয়নে ঢাকায় কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে এ আসনে আমার আব্বুর গড়া পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দুই উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি।
সৈয়দা আদিবা হোসেন বলেন, জনসেবা করার বিষয়টি রক্তে প্রবাহিত হচ্ছে। দুই বারের সংসদ সদস্য আমার পিতা ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন এ দুই উপজেলায় যে উন্নয়ন করেছেন তাঁর আগে বা পরে কোন এমপি সে উন্নয়ন করতে পারেননি। পিতার জনসেবা থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণাই আমায় প্রথমে সমাজসেবা এবং পরে রাজনীতিতে আসা।
আমার দল বিএনপি’র সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস দল মাঠের অবস্থান দেখে আমাকে বিবেচনা করবে।
অন্যদিকে, আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবিনা খান পপি বলেন, ছোট্টবেলা থেকে আব্বুকে দেখে এসেছি সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য তাঁর সকল অবদান। বিএনপি’র রাজনীতির মাধ্যমে তিনি বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জে যে উন্নয়ন করছেন আজো মানুষ তা মনে রেখেছে। তার কন্যা হিসাবে আমিও মানুষের সেবা করতে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি, নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং সেখানকার উন্নত জীবন দূরে ঠেলে এখানে এসেছি। দলের নেতাকর্মীদের মতো সাধারণ মানুষও আমাকে গ্রহণ করেছে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। দল আমাকে মূল্যায়ন করলে এ আসন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, সপ্তদশ শতকে কবি কৃষ্ণপ্রিয়া চৌধুরাণী সিলেটের পঞ্চখণ্ড তথা বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রথম নারী যিনি সমাজ সংস্কারে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর পদাঙ্ক অনুস্মরণ করে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান আমলে ব্রিটিশ বিরোধী নানকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন অর্পণা পাল চৌধুরী।




