শ্রীমঙ্গলে স্মৃতির পর্দায় টিকে থাকার লড়াই
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১:৫৫:০৩ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একসময় বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র ছিল স্থানীয় সিনেমা হলগুলো। সন্ধ্যা নামলেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ ভিড় জমাতেন বড় পর্দার সামনে। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই চিত্র এখন প্রায় বিলীন। ডিজিটাল প্ল-্যাটফর্মের বিস্তার, স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা এবং দর্শক সংকট সব মিলিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী বিনোদনের মাধ্যমটি আজ অস্তিত্ব সংকটে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারাবছর লোকসান গুণতে গুণতে হল মালিকদের পক্ষে বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে ব্যবসা সচল রাখার চেষ্টা করেন। তবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে কিছুটা দর্শক বাড়লেও তা দিয়ে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এক সময়ের চারটি সিনেমা হলের শহর শ্রীমঙ্গলে এখন সেই ইতিহাস প্রায় স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নিয়েছে। ‘চিত্রালী সিনেমা হল’ বহু আগেই বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ‘বিডিআর সিনেমা হল’ও বন্ধ হয়ে রূপ নিয়েছে বিজিবি মিলনায়তনে। বর্তমানে টিকে থাকা দু’টি হল ভিক্টোরিয়া ও রাধানাথ প্রতিদিনই লড়াই করছে টিকে থাকার প্রশ্নে। ভিক্টোরিয়া সিনেমা হল, এক সময়ের পরিচিত নাম, এখন আর্থিক সংকটে জর্জরিত। হল কর্তৃপক্ষ জানান, সারাবছরের লোকসান সামাল দিতে গিয়ে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যয়বহুল সিনেমা সংগ্রহ করাও হয়ে উঠছে কঠিন। এমনকি কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিক ঐতিহ্য ও স্মৃতি ধরে রাখার তাগিদেই হলটি এখনো চালু রাখা হয়েছে। অন্যদিকে রাধানাথ সিনেমা হলেও একই চিত্র। সাতজন কর্মচারী নিয়ে কোনোভাবে চালু থাকলেও নিয়মিত আয় না থাকায় তাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত। হলের ম্যানেজার জহির খন্দকার জানান, আগের মতো দর্শক আর আসেন না। “এখন মানুষ মোবাইলেই সবকিছু দেখে ফেলে। অথচ বর্তমান সময়ে অনেক ভালো ও মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে, বিশেষ করে ঈদের ছবি। কিন্তু সেগুলো আনতে খরচ বেশি, আর দর্শক না থাকায় সেই বিনিয়োগ ওঠে না,” বলেন তিনি।
ভিক্টোরিয়া সিনেমা হলের পরিচালক এস কে দাশ সুমনের মতে, দেশের অধিকাংশ সিনেমা হল এখন জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। “স্মার্টফোন, বড় টিভি ও সহজ ইন্টারনেট ব্যবস্থার কারণে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। পাশাপাশি মানসম্মত চলচ্চিত্রের অভাব ও হলগুলোর পরিবেশ উন্নয়ন না হওয়াও বড় কারণ। তিনি বিনোদনের এই সামাজিক ব্যবস্থাটি রক্ষায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি, কর সুবিধা ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।



