কোম্পানীগঞ্জে মোবাইল কোর্টের অভিযানে হামলা: তাঁতিদল নেতাসহ ৪ জনের জেল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মে ২০২৬, ৭:৫২:৫৮ অপরাহ্ন
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ধলাই সেতু রক্ষায় মোবাইল কোর্টের অভিযান চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ম্যাজিস্ট্রেট সহ ৫জন আহত হয়েছেন। বালুপাথর খেকুদের হামলা থেকে বাঁচতে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। এসময় উপজেলা তাতীদলের যুগ্ম আহবায়ক সহ চার জনকে আটক করে ১ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার ধলাই সেতুর নিচে কলাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সোমবার হামলার ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা তাতীদলের যুগ্ম আহবায়ক তাজ উদ্দিন ও মাসুক মিয়া এবং সদস্য গিয়াস উদ্দিন। তাদের বাড়ি উত্তর কলাবাড়ি গ্রামে। আর শ্রমিক মিসবাহ উদ্দিনের বাড়ি পাড়ুয়া গ্রামে। তাদের প্রত্যেককে ১ বছর করে জেল দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ধলাই সেতুর নিচ থেকে বালু পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় বালু বোঝাই কয়েকটি ট্রাক্টর আটক করার চেষ্টা করে অভিযানিক দল। তখন ট্রাক্টরের মালিক ও সেতুর নিচ থেকে সংঘবদ্ধ বালুপাথর লুটপাটকারীরা অভিযানিক দলের উপর হামলা চালায়। এতে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি চালক নাসিম, উপজেলা প্রশাসনের সেচ্ছাসেবী মঈন উদ্দিন, তারেক, নাজিম ও আমান মিয়া আহত হন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে মোবাইল কোর্টে থাকা আনসার সদস্য চার রাউন্ড গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় অভিযানিক দল ৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে একজন পথচারী ও একজন সেলুনের কর্মচারী থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে মঈন উদ্দিনের হাতে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ায় তার হাতে ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার জানান, ধলাই সেতু রক্ষায় সন্ধ্যার সময় সেতুর পিলারের নিচ থেকে বালুপাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য আমরা নদীপথে সেখানে যাই। এসময় বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর সেখানে বালুপাথর লোড করছিল। আমাদের নৌকা দেখার সাথে সাথে কয়েকটি ট্রাক্টর পালিয়ে যায়। আমরা সেতুর নিচে নৌকা থেকে নামা মাত্র আমাদের উপর শতাধিক মানুষ হামলা চালায়। এসময় আমাদের ৫ জন আহত হন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েন আনসার সদস্যরা।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র জানান, আটক ৪ জনকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় মামলার বিষয়ে ইউএনও মহোদয় এখনো আমাদের কিছু জানাননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জনকে আটক করে এক বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হামলার বিষয়ে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রায় ২ থেকে ৩০০ জনের মতো লোক হামলা চালায়।




