গ্রন্থালোচনা
জাবেদ আহমদের তিনটি গ্রন্থকথা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ জুন ২০২৬, ৮:৫২:১৭ অপরাহ্ন
সেলিম আউয়াল :
জাবেদ আহমদ পেশাগত জীবনে একজন ব্যাংকার। কিন্তু সেই শৈশব থেকে একজন সংগঠক, লেখক, পরিব্রাজক। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও বের হয়ে গেছে তার তিনটে বই। এর মধ্যে দুটো স্মৃতিকথামূলক ডায়েরি এবং একটি ভ্রমণকাহিনী।
জাবেদ আহমদ সেই শৈশব থেকে একজন ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। প্রাথমিকভাবে ভ্রমণ করেছেন দেশের ভেতরে এবং একসময় তা বিস্তৃত হয়েছে দেশের বাইরে। তার সর্বশেষ ভ্রমণ, ২০২২-এর শেষ দিকে। ৫ আগস্ট বেলা সোয়া একটায় ইস্তাম্বুলে তাকে নিয়ে টার্কিস বিমান ল্যান্ড করে। তারপর তার ভ্রমণ শুরু, ঝড়ের বেগকেও যেন হার মানালো তার এই ভ্রমণ। মাত্র বাইশ দিনে ইউরোপের সাতটি দেশ ভ্রমণ। তুরস্ক, ইতালি, ভ্যাটিকান সিটি, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড এই সব দেশের দর্শনীয় স্থান দেখার সাথে সাথে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথেও সাক্ষাতের কাজ সারেন দ্রুততার সাথে।
জাবেদ আহমদের প্রধান স্বপ্ন ছিলো ইউরোপ সফরকালে তার মরহুম চাচা জহির উদ্দিন চৌধুরীর কবর জেয়ারত। এই চাচা তার জীবনের মোড় ঘুরাতে সবচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তিনি ইংল্যান্ডে চাচার কবর জেয়ারত করেছিলেন। মায়ার টানে, কৃতজ্ঞতা জানাতে স্বল্প সময়ের জন্যেও ছুটে গেছেন দূরের-কাছের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধবের কাছে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনের ভ্রমণকাহিনিটিও বর্ণনা করেন আমাদের কাছে ফেসবুকের মাধ্যমে। সেইসব কাহিনির সংকলন ‘ইউরোপের সাত দেশে বাইশ দিন’।
জাবেদের ভ্রমণের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য সময়ের সদ্ব্যবহার এবং কম খরচে বেশি মজা। যা একজন ভ্রমণকারীর জন্যে অপরিহার্য। সবচে মজার ব্যাপার নিজের বর্ণনার পাশাপাশি তার আরো দু’জন সফরসঙ্গীর লেখা সংযোজন বইটিকে আলাদা একটি আমেজ দিয়েছে। এই দুজন, সাংবাদিক আহমেদ শামীম ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমানÑ দু’জনই জাবেদের দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় সাংবাদিকতার জীবনের সহকর্মী ও বন্ধু। বইটিতে বিভিন্ন সময়ে লেখকের সৌদি আরব, শ্রীলংকা, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া সফরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠক জাবেদ আহমদের পঞ্চাশ বছরপূর্তিতে দেয়া সংবর্ধনার সংক্ষিপ্ত বিবরণও দেয়া হয়েছে-যার মাধ্যমে একজন সফল সংগঠক হিসেবে তার পরিচিতি ফুটে উঠেছে।
১৬০ পৃষ্ঠার বইটি উৎসর্গ করেছেন তার পিতা ফৈয়াজ উদ্দিন চৌধুরী (ফজই মিয়া), মাতা আলহাজ তাহেরা চৌধুরী, চাচা আলহাজ জহীর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, চাচা এ.কে.এম. শামসুদ্দিন চৌধুরী, চাচী জমজম খানম আহমদ, সহধর্মিণী নূরজাহান পারভীন চৌধুরীকে। বইটি বের হয়েছে ২০২৩ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবরে কৈতর প্রকাশন থেকে।
আগে শুনতাম পায়ের তলায় যাদের তিল থাকে, তারা নাকি খুব ভ্রমণ করে। জানিনা জাবেদের পায়ের তলায় কতোটা তিল আছে, তবে সুস্থ থাকলে পুরো পৃথিবী না হলেও অর্ধ পৃথিবী ভ্রমণ করবেন জাবেদÑ আমার এই বিশ^াস আছে। আমার এই প্রত্যয় কাউকে অবাক করতে পারে। আসলে অবাক হবার কিছু নেই, সেই সাতশত বছর আগে ইবনে বতুতা মরক্কো থেকে তার যাত্রা শুরু করে সিলেট পর্যন্ত এসেছিলেন। ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুন ঘর ছেড়ে বের হওয়া ইবনে বতুতা তার পরিব্রাজক জীবনের প্রায় তিরিশ বছরে পৃথিবীর কমপক্ষে ৭৫ হাজার মাইল পথ পরিভ্রমণ করেছেন। পৃথিবীতে তখন আজকের মতো দ্রুত ছুটে চলা কোন যানবাহন ছিলো না। বাষ্পীয় ইঞ্জিনের যুগ শুরু হওয়ার আগে সেই সময়টায় কোন পর্যটক এতো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেননি। আবার এই বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জের রামনাথ বিশ^াস সিঙ্গাপুরের কুইন্স স্ট্রিটের বাঙ্গালি মসজিদের সামনে থেকে সাইকেলে শুরু করেছিলেন তার ভ্রমণ, সাইকেলের গায়ে লেখা ছিলো ‘রাউন্ড দি ওয়ার্ল্ড, হিন্দু ট্র্যাভেলার’।
১৯৩১ সালের ৭ জুলাই তারিখে তার ভ্রমণ শুরুকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শত শত সিলেটি। সেদিন ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিলো কুইন্স স্ট্রিট। ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিও সমান তালে হয়েছিলো উচ্চারিত। রামনাথ ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তার ভ্রমণের সমাপ্তি টেনেছিলেন। সাইকেলে তেপ্পান্ন, পায়ে হেঁটে সাত, রেল গাড়িতে দুই এবং জাহাজে পঁচিশ হাজারÑসব মিলিয়ে সাতাশি হাজার মাইল (১,৪০০১২ কিলোমিটার) ভ্রমণ করেন রামনাথ বিশ্বাস। এইভাবে জাবেদ আহমদও সম্পন্ন করবেন একটি রোমাঞ্চকর দীর্ঘ ভ্রমণ এবং পাঠকদেরকে দেবেন চমৎকার কাহিনি, সেই কাহিনি পড়ার অপেক্ষায়।
জাবেদ আহমদ বদলি হয়ে সিলেট থেকে চলে গেলেন ঢাকা (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪), বাংলাদেশ ব্যাংকের হেড অফিসে। তাই দেশের বাইরে যাওয়া আপাতত ক্ষান্ত। আর হপ্তায় হপ্তায় ঢাকা-সিলেট আসতে আর যেতেই কয়েকটি দেশ ঘুরার সময় আর পথ অতিক্রান্ত। এই ঢাকা-সিলেট ভ্রমণকেও তিনি হেলা করে দেখলেন না। শুরু হলো আরেক ধরনের লেখাজোকা। তিনি লিখতে শুরু করলেন ডায়েরি। তার ডায়েরি লেখা বাজার থেকে কেনা ডাইরিতে বছরের প্রথম দিন থেকে লেখা সেই সনাতনী কায়দায় নয়। তিনি তার প্রতিদিনের দিনপঞ্জি লিখতে শুরু করলেন ফেইসবুকে।
জাবেদ আহমদের একটি অভ্যাস প্রতিদিন ভোরে হাঁটা। এই অভ্যাস তার সিলেট জীবনে এবং অভ্যাসটি ঢাকা জীবনেও ছিলো। সিলেটের সবগুলো রাস্তা, সবগুলো মাঠ, শহরের কাছাকাছি সবগুলো পাহাড়-টিলায় ভোরবেলায় তার পা পড়েছে। একই কায়দায় ঢাকার নানা পথঘাটে ভোরবেলা হাঁটা, বাদ পড়েনি রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলদা গার্ডেনও। জাবেদের সেই ভোরবেলা হাঁটা শুরু থেকে দিনের-রাতের সময়ে কার সাথে কোথায় দেখা হলো, কি কাজ হলো, কী কথাসব হলো, এইসব কিছু লিখে রাখতেন ফেইসবুকে। অসংখ্য মানুষজনের নামে ঠাসা ফেইসবুকে লেখা দিনলিপিগুলো জাবেদ আহমদের একান্ত নিজের জন্যে লেখা। কয়েক দিন লেখার পর জাবেদ বুঝলেন অনেকে বেশ আগ্রহ নিয়ে তার লেখা পড়ছেন।
কারণ ফেইসবুকের লেখার নিচে নানাজন কমেন্ট করে, কেউ কেউ তাকে আবার ফোন করে নিজের প্রতিক্রিয়া জানায়। জাবেদের উৎসাহ বেড়ে যায়, মানে লেখার গতি বৃদ্ধি পায়। এবং এটিও একটি আশ্চর্য কারবার, প্রযুক্তি মানে এ-আই’র যুগে এসে প্রতিদিনের নানা ব্যস্ততার পর অথবা ব্যস্ততার ফাকে ফাঁকে জাবেদ ডায়েরি লিখছেন। তারপর নানা জনের পরামর্শে জাবেদ ফেইসবুকে বের হওয়া লেখাগুলো গুছিয়ে বের করেন ‘চব্বিশের ঢাকার ডায়েরি’। অবশ্য এই ডায়েরির বিষয় শুধুই ঢাকা নয়, জাবেদ যেখানে গিয়েছেন সেটা সিলেট হোক আর খুলনা হোক অথবা চট্টগ্রাম, সব জায়গার, দেখা হওয়া কথাবলা মানুষজনের কথা এসেছে ডায়েরিতে।
যখন বই হয়ে বাজারে আসলো ‘চব্বিশের ঢাকার ডায়েরি’, অনেকে বিস্মিত ঢাকা-সিলেট ছুটাছুটি আর প্রতিদিনের কাজের চাপে জাবেদ সাহেব এতোসব লিখলেন কখন। কেউ কেউ মুখ টিপে হাসেন, একটু আনন্দ আছে- নিজের নামটি এসেছে বইয়ের পাতায়। সেই সময়ে ২০২৪ সালের ১ মার্চ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের চমৎকার নৌবিহার হয়েছিল, ঢাকার সদর ঘাট থেকে চাঁদপুর। আমিও আমার ওয়াইফ আফিয়া সুলতানাকে নিয়ে অংশ নিয়েছিলাম। জাবেদও ছিলেন। নৌবিহারের তারিখ, অনেকের নামধাম ভুলে গেছি, কিন্তু জাবেদের বই তাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিল।
জাবেদ আহমদের ডায়েরি একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হলেও কান টানতে মাথা আসে’র মতো আমাদের সেই সময়, মানে দুই হাজার চব্বিশ সালটা কেমন ছিলো, তার একটি ছবি আমাদের সামনে চলে আসে তার লেখায়। পাঁচ আগস্টের বিপ্লবের ক্ষণটির চিত্রও পাওয়া যায় তার ‘চব্বিশের ঢাকার ডায়েরি’-তে।
চব্বিশে যখন ছাত্র-গণ অভ্যূত্থান হলো, আগুন ঝরা, রক্তঝরা সেই দিনগুলোতে জাবেদ ঢাকায় তার কর্মক্ষেত্রে। মাঝেমধ্যে সিলেট আসতেন। ঢাকায় সিলেটের নানাজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের স্মৃতিকথা রয়েছে ডাইরির পাতায় পাতায়। তিনি খুব কাছে থেকে দেখলেন ছাত্র-জনতার জোয়ার, মিছিলের রাজপথ, জীবনকে তুচ্ছ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া মানুষকে। এ কসময় জাবেদ দেখলেন সংগ্রামী সেই মানুষগুলোর সাথে তিনিও পা মিলিয়ে হাঁটছেন; হাঁটতে হাঁটতে মতিঝিল-শাহবাগ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখো মানুষের আনন্দ মিছিলে তিনিও একজন।
শুধু তাই নয়, ‘চব্বিশের ঢাকার ডায়েরি’র প্রচ্ছদে ছিল শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর জনতার দখলে থাকা গণভবন এবং বইটিও উৎসর্গ করা হয় ফ্যাসিস্ট বিরোধী সংগ্রামের সেই মানুষজনকে-‘সিলেটের তরুণ সাংবাদিক এটিএম তুরাব এবং ঐতিহাসিক জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের শত সহস্র শহিদের স্মৃতির প্রতি’। এইভাবে নিজের অজান্তে ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে গেলো তার লেখাজোকা। ১২০ পৃষ্ঠার ‘চব্বিশের ঢাকার ডায়েরি’ বইটি ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ বের করে কৈতর প্রকাশন।
আমরা যারা জাবেদ আহমদের ফেইসবুকের পাঠক অথবা ছাপা হওয়া ‘চব্বিশের ঢাকার ডায়েরি’-র পাঠক, তারা ভেবেছি এই বোধ হয় ডাইরি ছাপার হরফে বের হবার ইতি ঘটলো। কিন্তু জাবেদ আহমদ আমাদেরকে অবাক করে বের করলেন ‘পঁচিশের ঢাকার ডায়েরি’। সেই বছরের শুরুর দিন থেকে পঁচিশের শেষ দিনটি পর্যন্ত, সকল কর্মকাণ্ড এসেছে এই ডায়েরিতে।
এই বছরের একটি দুঃখজনক ঘটনা আপসহীন নেত্রী, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল। কারো মৃত্যুতে জানাযায় এতো মানুষের জমায়েত ঢাকা তথা বাংলাদেশ সেই প্রথম দেখলো। জাবেদ সেই জানাযায়ও ছিলেন, বেদনার সেই স্মৃতিটুকুনও তিনি লিখেছেন গভীর আবেগে। বইয়ের কভারে জানাযার ছবি, মানুষে মানুষে প্রশান্ত মহাসাগর। বইটিও উৎসর্গ করলেন-‘বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও যাঁর কোনো ঠিকানা নেই, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র স্মৃতির প্রতি’।
বইয়ের শেষে পেছন দিকে একটি ছবি-এলবাম। লেখাজোকা জাবেদ আহমদের নিজের স্টাইলে। জাবেদ কখন কোথায় গেলেন, কোন সহকর্মীর সাথে হাত মেলালেন, অথবা কোন সহকর্মীর বাসায় চা খেলেন, নাস্তা খেলেন, ভাত খেলেন-সবকিছু লিখলেন।
সিলেটে এক সতীর্থের বাসায় চা খাবার কথা লিখতে লিখতে চলে গেলেন মধুশহীদ জামে মসজিদে নামাজ পড়তে, নামাজের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ মিসবাহ উদ্দিনের নামও শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করলেন। বিষয়গুলো একান্ত ব্যক্তিগত হলেও একই সাথে মুসলিম জাতিসত্তার প্রাণপুরুষ নওয়াব সলিমুল্লাহর কথাও লিখেছেন। তার মৃত্যুর একশ’ দশ বছর পরও নওয়াবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকার দেয়ালে পোস্টার সাঁটার কথা লিখে, তিনি তার লেখাকে কালের সাক্ষী করলেন।
একইভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে বিশাল জনসভায় ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামে জুলাই বিপ্লবের ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাবের কথাও তার নজর এড়ায়নি। জাবেদ আহমদের ‘পঁচিশের ঢাকার ডায়েরি’ শেষ হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং জানাযার বর্ণনায়। জাবেদ লিখেছেন, ‘ঢাকা শহরে আজ কোন স্লোগান নেই, কারো নির্দেশনা নেই, তবুও সবাই একদিকে যাচ্ছে। এ যেন এক নিরব শৃংখলা, যা কেবল শোক থেকেই জন্ম নেয়। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য।’ ২৮৮ পৃষ্ঠার বইটি বের হয়েছে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ এবং প্রকাশ করেছে কৈতর প্রকাশন, সিলেট।
জাবেদ আহমদের পুরো বইটি পড়লে যেমন মনে হবে ব্যক্তিগত টুকিটাকি, আবার কালের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়েছে-যখন তিনি স্মৃতিচারণ করেছেন মৃত্যুর একশ’ দশ বছর পর নওয়াব সলিমুল্লাহকে স্মরণ করে ঢাকার দেয়ালে পোস্টার সাঁটা হচ্ছে। এইভাবে ব্যক্তিগত স্মৃতিকথাও ইতিহাসের উপাদান। বাংলাদেশের আকাশে প্রথম কোন নারী উড়ে বেড়িয়েছেন, এই ঐতিহাসিক তথ্যটি আবিস্কৃত হয়েছে হাসন রাজার ছেলে গণিউর রাজার স্মৃতিকথার রেশ ধরে। এই সিলেটের কথাই বলি, সিলেটে মহাত্মা গান্ধী, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সফরের চিত্র ফুটে উঠেছে রাজনীতিবিদ, ভাষাসৈনিক আব্দুল্লাহ বিএল-র ডাইরির পাতায়।
তিনি বোধ হয় একটানা ৪০ বছর ডাইরি লিখেছেন, সবগুলো ডায়েরি তার ছেলে আয়কর উপদেষ্টা আবু আসাদ-এর কাছে আছে। নিশ্চয় সিলেট অঞ্চলের চল্লিশ বছরের ইতিহাস লেখার কাজে আব্দুল্লাহ বিএল-এর ডাইরি অন্যতম উপাদান। তাহলে আমাদেরও ভাবতে আপত্তি কোথায়, জাবেদ আহমদের ডাইরিও একদিন আমাদের ইতিহাসের উপাদান হবে। ফেইসবুকে এখন জাবেদের রোজনামচা দেখি না। তিনি বোধ হয় এখন লিখছেন না।
সম্প্রতি (মে ২০২৬) জাবেদ ঢাকা থেকে বদলী হয়ে আবার নিজের ডেরায় নিজের শহরে ফিরেছেন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে জাবেদ আহমদ আবার লিখতে শুরু করবেন সিলেটের ডায়েরি এবং এই ডায়েরি হবে সিলেটের ইতিহাসের একটি আকর গ্রন্থ।



