মহান মে দিবস আজ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০১ মে ২০২৬, ২:৩৪:৩০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: আজ ১ মে, মহান মে দিবস। বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণে দিনটি পালিত হয় অনাড়ম্বর মর্যাদায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই দিবসটির তাৎপর্য অনস্বীকার্য-কারণ দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির বড় অংশই শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে এগিয়ে যাচ্ছে।
এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য-‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’- সময়োপযোগী ও বার্তাবাহী। এটি শুধু দিবসের শ্লোগান নয়, বরং একটি অভিযাত্রার ডাক-যেখানে উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাঝে সমতা ও শ্রদ্ধার সেতুবন্ধন গড়ে উঠবে।
১৮৮৬ সালের ১ মে, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট স্কয়ারে হাজারো শ্রমিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন। এই সময় পুলিশের ওপর বোমা বিস্ফোরণ হলে, পুলিশ গুলি চালায় শ্রমিকদের ওপর। প্রাণ হারান ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য। তাদের আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। ১৮৮৯ সালে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালনের প্রস্তাব তোলা হয়, যা ১৮৯১ সালে গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯০৪ সালে আমস্টারডামে সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দিবসটি উদযাপনকে বাধ্যতামূলক কাজবিরতির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন থেকেই ১ মে বিশ্বজুড়ে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে দৈনিকগুলোতে আজ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলও দিনব্যাপী বিশেষ আলোচনা, টকশো ও তথ্যচিত্র প্রচার করছে। বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং শ্রমিক নেতারা এই আলোচনা পর্বে অংশ নিচ্ছেন এবং বর্তমান শ্রম পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে মত দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতির চাকা সচল করতে এখন সময় শ্রমিক-মালিক সম্পর্ককে সহাবস্থানের উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার। উন্নত অর্থনীতিগুলোতে শ্রমিকের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সম্মানজনক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করেই টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে শ্রমিক শ্রেণি এখনও অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে-অবৈধ ছাঁটাই, বেতন বিলম্ব, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ ইত্যাদি। এসব সমস্যার সমাধানে সরকার, মালিক এবং শ্রমিক-তিন পক্ষকেই যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
মহান মে দিবসের তাৎপর্য কেবল ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায় নয়, এটি ভবিষ্যতের পথে একটি নির্দেশনাও। একদিকে শ্রমিকদের রক্তে কেনা অধিকার, অন্যদিকে মালিকদের মেধা ও বিনিয়োগ-এই যুগল শক্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটলে, বাংলাদেশ সত্যিই একদিন বৈষম্যহীন, টেকসই এবং মানবিক অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে।
দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতিত্ব করবেন। এদিকে, মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এছাড়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ সমাবেশে লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে দলটি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকরাই হলো দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। তিনি বলেন, শিল্প, কৃষি, নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাঁদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক এবং শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার মাধ্যমে একটি উন্নত শ্রমিকবান্ধব সমাজ এবং মানবিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ- এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন
মহান মে দিবসে ছুটি কার্যকর করার দাবিতে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আগামী মহান মে দিবস উপলক্ষে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের মশাল মিছিল বের করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর তালতলাস্থ কার্যালয় প্রাঙ্গনে জমায়েত হয়ে এক প্রচার মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমানী মেডিকেল রোর্ড এলাকায় গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিলের সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম সফর আলী খাঁন পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা এস এম নুরুল হুদা সালেহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক নজুরুল ইসলাম কমবুল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখা যুগ্ম আহবায়ক মিনহাজ আহমদ।




