বৃষ্টি না হওয়ায় হাওরে স্বস্তি
জলাবদ্ধতায় লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শুকাতে না পেরে চারা গজিয়েছে কাটা ধানে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০১ মে ২০২৬, ২:৪০:৪৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা ॥ বৃষ্টিপাত না হওয়া ও রোদের দেখা মেলায় স্বস্তি ফিরেছে হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জে। তবে বৃষ্টিপাত না হলেও উজানের পানিতে হাওরে পানি বাড়ছে। জলাবদ্ধ জেলার প্রায় সবকটি হাওরের পাকা ও আধাপাকা ধান। অনেক হাওরের নিচু এলাকায় পানি বেশি থাকায় ধান কাটা যাচ্ছে না। হাজার টাকা মজুরি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক। মিলছে না ধান কাটার মেশিন। চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে সারা বছরের খোরাক, নিঃস্ব হচ্ছেন কৃষক। কোমর কিংবা গলা পানিতে নেমে ধান কাটতে গিয়ে রীতিমতে জলের সাথে যুদ্ধ করছেন চাষীরা। এমন চতুর্মুখী সংকটে দিশেহারা অবস্থা কৃষকদের।
পৌরসভার ওয়েজ খালি এলাকার বর্গা চাষী শাহজাহান, বিঘা প্রতি ৫ চুক্তিতে শিয়ালমারা হাওরে ২০ বিঘা জমি চাষ করেছিলেন। অতিবৃষ্টিতে ইতোমধ্যে ১৫ বিঘা জমির ধান খুইয়েছেন। বাকি ৫ বিঘা জমির ধান কোমর পানিতে ৭ ভাগা হিসেবে শ্রমিক দিয়ে কাটছেন। আক্ষেপ নিয়ে শাহজাহান বলেন, সব শেষ, যা আছে তা জমির মালিককে কি দিবো আর আমিই কি নিবো। সরকার যদি পাশে না দাঁড়ায় তাহলে বাঁচা দায়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা হাওরের বুনিয়াদী কৃষক জাবেদ আলী। ২০ বিঘা জমির মধ্যে কাটতে পেরেছেন ১২ বিঘা জমির ধান। মাড়াই করার পর শুকাতে না
পেরে চার গজিয়েছে ২০০ বস্তা ধানে। বৃহস্পতিবার রোদের দেখা মেলায় ধান চারা গজানো ধান রোদে শুকানো দিলেও বেশির ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান এই চাষী। জাবেদ আলী বলেন, পানিতে এতো জমির ধান গেলো। যা কেটে আনছি তাও শুকাতে পারিনি। সব ধানে লম্বা লম্বা গেরা (চারা) এসেছে, কতটুকু টিকবে জানি না। আমার মতো সবার একই অবস্থা। আমরা বড় জানিয়েছে, সংকটে আছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বুধবার সকাল নয়টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ৮ মিলিমিটার। এ সময়ে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ১৮ সেন্টিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়েছিল ৫৬ সেন্টিমিটার। তবে গত সোমবার রাতের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলেই বড় ক্ষতি হয়েছে। সেদিন মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৩৭মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। এতে হাওরের বোরো ধান ব্যাপক হারে তলিয়ে যায়। আগামী ৩ দিন উজানে বৃষ্টিপাত সম্ভাবনা থাকা আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পওর-২ মো ইমদাদুল হক।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলে ফসল রক্ষাবাঁধে পানির চাপ সৃষ্টি করা বাঁধে সতর্কতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সিলেট বিভাগের অ তি রিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাওসার আলম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরে ১৩ হাজার ৫৭ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর। এর আগে জলাবদ্ধতায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর ক্ষতির কথা জানানো হয়েছিল। তবে হাওর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, বাস্তবে প্রায় অর্ধেক ধানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় কোথাও ভারী বৃষ্টি না হলেও ঢলের পানিতে নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে।



